1 Jul 2026, Wed

৪০ বছর পর নকআউটে জয় পেল মেক্সিকো

দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মেক্সিকো বিশ্বকাপে তাদের জয় অব্যাহত রেখেছে। দূর্দান্ত লড়াইয়ে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে স্বাগতিকরা জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোতে। পুরো ম্যাচে রক্ষণভাগ ও আক্রমণে দারুণ সমন্বয় দেখিয়ে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখে মেক্সিকো।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। বলের দখল ও দ্রুত আক্রমণের মাধ্যমে ইকুয়েডরের রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলে তারা। সেই চাপ থেকেই আসে দুই গোলের লিড। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও মেক্সিকোর সুশৃঙ্খল রক্ষণ তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল অনেকটা সময় নিজেদের কাছে রাখে ইকুয়েডর। একের পর এক আক্রমণও চালায় তারা। তবে মেক্সিকোর রক্ষণভাগ প্রতিটি আক্রমণ ঠেকিয়ে দেয়। কর্নার, ক্রস কিংবা দূরপাল্লার শট কোনো কিছুতেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

অন্যদিকে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল মেক্সিকো। অতিরিক্ত সময়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে তৃতীয় গোলের সম্ভাবনা তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে সঠিক পাস ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাবে তা আর হয়নি। তবু দুই গোলের জয় নিয়েই নিশ্চিন্তে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শেষ দিকে ইকুয়েডরের হতাশা আরও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে মুখ ঢেকে কথা বলায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে। ফলে শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দল নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে হয় ইকুয়েডরকে।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে অনন্য এক কীর্তিও গড়েছে মেক্সিকো। বিশ্বকাপে টানা চারটি ম্যাচ জিতে একটিও গোল হজম করেনি তারা। ১৯৯০ সালের ইতালির পর প্রথম দল হিসেবে এমন সাফল্য পেল মেক্সিকো। স্বাগতিকদের এই দুর্দান্ত রক্ষণ ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের শিরোপা প্রত্যাশাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে অন্যতম সেরা দল হিসেবে বিশ্বকাপে এলেও ইকুয়েডরের যাত্রা থেমে গেল নকআউট পর্বে । ম্যাচজুড়ে লড়াই করেও মেক্সিকোর শক্ত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত হতাশার বিদায় নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হয়েছে ইকুয়েডরকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *