সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে রক্তে শর্করার বা ব্লাড সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এটি শরীরে শক্তি জোগাতে, মিষ্টি খাওয়ার অতিরিক্ত প্রবণতা কমাতে এবং ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাস, সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সমন্বয়ে খুব সহজেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
১. স্বাস্থ্যকর খাবারই মূল ভিত্তি
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার দিয়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা সাজানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
খাদ্যতালিকায় যা রাখবেন: প্রোটিন, আঁশযুক্ত (ফাইবার) খাবার, গোটা শস্য (হোল গ্রেইন) এবং শাকসবজি।
যা বর্জন করবেন: মিষ্টি এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার।
কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত খাবার: যেসব খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, সেগুলো রক্তে খুব ধীরগতিতে চিনি সরবরাহ করে। ফলে হঠাৎ করে রক্তের সুগার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
২. সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণ ও খাওয়ার নিয়ম
খাবার নির্বাচনের পাশাপাশি তা সঠিক সময়ে খাওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সকালের নাশতার সময়: ঘুম থেকে ওঠার দুই ঘণ্টার মধ্যে সকালের নাশতা সম্পন্ন করা উচিত। এটি সারাদিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
খাবার খাওয়ার সঠিক ক্রম: বিশেষজ্ঞরা খাবার খাওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দেন। প্রথমে প্লেটের শাকসবজি খাওয়া উচিত, এরপর প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং সবশেষে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা (যেমন: ভাত বা রুটি) খাওয়া ভালো।
৩. দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকবেন না
রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে প্রতি তিন থেকে চার ঘণ্টা পর পর পরিমিত পরিমাণে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। দুই বেলার প্রধান খাবারের মাঝে ক্ষুধা লাগলে কাঠবাদাম, পনির কিংবা ফলের মতো স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স খাওয়া যেতে পারে, যা ঝটপট ক্ষুধা মেটাবে কিন্তু রক্তের সুগার হুট করে বাড়াবে না।
৪. শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম
রক্তে শর্করা ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের বিকল্প নেই।
খাবার পরের হাঁটা: প্রতি বেলা খাবার খাওয়ার পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ অনেক উন্নত করে।
সাপ্তাহিক লক্ষ্য: সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন স্ট্রেন্থ ট্রেনিং বা ওয়েট লিফটিং (ওজন তোলা) করা উচিত। সব মিলিয়ে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম করার লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।
৫. ঘুম, পর্যাপ্ত পানি ও মানসিক চাপ মুক্ত জীবন
খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের পাশাপাশি জীবনযাত্রার অন্যান্য অভ্যাসও শর্করার মাত্রায় প্রভাব ফেলে। এজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা।
মানসিক চাপ মুক্ত থাকা ও তা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা।
সতর্কতা হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছেন, যারা ইতোমধ্যে ডায়াবেটিসে ভুগছেন বা ঝুঁকিতে আছেন, তাদের নিয়মিত রক্তের শর্করা পরীক্ষা করা উচিত।
তবে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম কিংবা জীবনযাত্রায় যেকোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, যাতে তা শরীরের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিরাপদ হয়।
সূত্র: সামা টিভি

