5 Jul 2026, Sun

পাকিস্তান টেস্ট দলে আবারও নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন শান মাসুদ। তার জায়গায় দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে তারকা ব্যাটার বাবর আজমকে। চলতি মাসের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য দল ঘোষণার সময় এ সিদ্ধান্ত জানায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

শান মাসুদের অধিনায়কত্বের অধ্যায় শেষ হলো হতাশার মধ্য দিয়ে। প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৬টি টেস্টে। এর মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে মাত্র তিনটি, হেরেছে ১২টিতে। ফলে টেস্ট ইতিহাসে নিজের প্রথম ১৬ ম্যাচে ১২টি হার বরণ করা প্রথম অধিনায়ক হিসেবে অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

শুধু তাই নয়, তার নেতৃত্বেই টানা সাতটি টেস্টে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় পাকিস্তান, যা দেশটির ইতিহাসে যৌথভাবে সবচেয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক হারের একটি। অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ম্যাচের সবগুলোতে হার দিয়ে শুরু হয়েছিল মাসুদের যাত্রা। এরপর ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে শূন্য-দুই ব্যবধানে সিরিজ হারও পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই ছিল তাদের প্রথম টেস্ট সিরিজ পরাজয়।

অবশ্য মাসুদের নেতৃত্বে একমাত্র বড় সাফল্য ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়। তবে সাতটি সিরিজের মধ্যে সেটিই ছিল একমাত্র সিরিজ জয়। বাকি চারটিতে হার এবং দুটি ড্রয়ে শেষ হওয়ায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার একেবারে নিচে নেমে যায় পাকিস্তান।

দল হিসেবে ব্যর্থ হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে খুব একটা পিছিয়ে ছিলেন না মাসুদ। অধিনায়ক হওয়ার পর তার ব্যাটিং গড় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ দশমিক শূন্য ছয়। এই সময়ে তিনি করেন দুটি সেঞ্চুরি ও সাতটি অর্ধশতক। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে একটি সেঞ্চুরি এবং মেলবোর্নে একই ম্যাচে দুটি অর্ধশতক ছিল তার উল্লেখযোগ্য অর্জন।

এবার আবারও দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে বাবর আজমের হাতে। ২০২৩ সালে নেতৃত্ব ছাড়ার পর তিন সংস্করণেই ব্যাট হাতে কঠিন সময় পার করছেন তিনি। বিশেষ করে মাসুদের অধীনে টেস্টে তার গড় ছিল ২৭-এর সামান্য বেশি। তবু অভিজ্ঞতা ও বিকল্পের অভাব বিবেচনায় বাবরকেই আবার অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

প্রথম মেয়াদে বাবরের অধিনায়কত্ব ছিল তুলনামূলক সফল। তার নেতৃত্বে ২০টি টেস্টের মধ্যে ১০টিতে জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মাঠে প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করার মতো সাফল্যও আসে তার অধিনায়কত্বে। সেই সময়ে ব্যাট হাতেও দারুণ ধারাবাহিক ছিলেন বাবর; টেস্টে তার গড় ছিল ৫০-এর বেশি।

তবে সেই অধ্যায়ও পুরোপুরি নির্ভুল ছিল না। বাবরের নেতৃত্বেই ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে শূন্য-তিন ব্যবধানে সিরিজ হারে পাকিস্তান, যা তাদের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় হতাশার ঘটনা।

দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নিয়েই কঠিন সূচির মুখোমুখি হচ্ছেন বাবর। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষেই ইংল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। এরপর নিজেদের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে ব্যস্ত মৌসুম পার করতে হবে নতুন-পুরোনো এই অধিনায়ককে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *