14 Jul 2026, Tue

বর্ষায় মশার উপদ্রব বাড়ছে, জেনে নিন কার্যকর কিছু উপায়

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও গরমের কারণে মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ সময় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু কয়েল বা স্প্রের ওপর নির্ভর না করে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতিও অনুসরণ করা যেতে পারে।
সম্প্রতি লেবুর খোসা ও তেজপাতা পানিতে ফুটিয়ে তার বাষ্প ব্যবহার করে মশা তাড়ানোর একটি পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেবুর খোসায় থাকা ডি-লিমোনিন এবং তেজপাতার সিনেওল, লিনালুল ও ইউজিনলের মতো উদ্বায়ী উপাদান গরম হলে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘরের ভ্যাপসা গন্ধ কিছুটা ঢাকা পড়ে এবং আশপাশের কিছু পোকামাকড় সাময়িকভাবে দূরে থাকতে পারে। তবে এই পদ্ধতিতে মশা স্থায়ীভাবে দূর হয়—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও মেলেনি।

মশা দূরে রাখতে আরেকটি পরিচিত ঘরোয়া উপায় হলো লেবুর অর্ধেক অংশে কয়েকটি লবঙ্গ গুঁজে ঘরের বিভিন্ন স্থানে রাখা। সাইট্রাস ও লবঙ্গের তীব্র গন্ধ মশার জন্য অস্বস্তিকর হওয়ায় এটি কিছুটা কার্যকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো কোথাও পানি জমতে না দেওয়া। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ড্রেন, ফুলের টব বা আশপাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে, কারণ এসব স্থানেই মশা ডিম পাড়ে।

এ ছাড়া তুলসি, লেমনগ্রাস, গাঁদা, পুদিনা ও ক্যাটনিপের মতো গাছ বাড়ির আশপাশে লাগালে মশার উপদ্রব কিছুটা কমতে পারে। পুদিনাপাতা পানিতে ভিজিয়ে বা ফুটিয়ে তার গন্ধ ছড়িয়ে দিলেও কিছু পোকামাকড় দূরে থাকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ঘরোয়া উপায় সহায়ক হলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার। এগুলোর সমন্বিত প্রয়োগেই বর্ষাকালে মশার উপদ্রব কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *