বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাসকে রোববার শৃঙ্খলা কমিটির শুনানিতে ডেকেছে বিসিবি। বিসিবির একজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ক্রিকবাজকে।
চোটের অবস্থা যাচাই করতে ২০ জুলাই সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে লিটনের। এই চোটের কারণেই জিম্বাবুয়ে সফর থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন তিনি। একই কারণে চলমান লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও খেলতে পারছেন না তিনি। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলার জন্যই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লিটন।
টেস্ট সিরিজ মিস করার পর জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে খেলতে গিয়েছিলেন লিটন। তবে এ বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে পাওয়া কাফ মাসলের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় দ্রুতই দেশে ফিরে আসেন তিনি। এই চোটের কারণেই অজিদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেও ছিটকে গিয়েছিলেন লিটন।
জানা গেছে, জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফেরার পর বিসিবিকে না জানিয়েই চীনে চলে যান লিটন। এই বিষয়টি বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভালোভাবে নেননি। কারণ, লিটনের চোটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত ছিলেন না।
লিটনের এই আচরণের পরই তাকে শৃঙ্খলা কমিটির শুনানিতে ডাকে বিসিবি। বোর্ডের মতে, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা একজন ক্রিকেটার হয়ে বোর্ডকে না জানিয়ে দেশ ছাড়াটা আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল।
শৃঙ্খলা কমিটির এই শুনানি নিয়ে জানতে চাইলে বিসিবির একটি সূত্র ক্রিকবাজকে রোববার বলে, ‘সে (লিটন) চীনে গিয়েছিল, যেটা বোর্ড ভালোভাবে নেয়নি। বোর্ড তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করেছে, কেন এবং কার অনুমতি নিয়ে সে চীনে গেছে।’
বিসিবির পরিচালক সিরাজুদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, রোববার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো খেলোয়াড়ের শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি বোর্ড বরদাশত করবে না।
আলমগীর বলেন, ‘শুনানিতে সে নিজের বক্তব্য দিয়েছে। এখন আমাদের মেডিকেল কমিটির সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং পুরো বিষয়টি যাচাই করতে হবে। তবে আমরা যা শুনেছি, তাতে মনে হচ্ছে সে সত্যি কথাই বলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে অনেক দিন ধরেই খেলছে। তার ক্যারিয়ারে তেমন কোনো শৃঙ্খলাজনিত সমস্যার রেকর্ড নেই। এই বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে না পারায় সে কিছুটা হতাশ, এটাও মনে হচ্ছে।’
আলমগীর বলেন, ‘এখানে যোগাযোগের একটা ঘাটতি ছিল মাত্র। এটা ইচ্ছাকৃত কিছু বা কোনো ধরনের লঙ্ঘন নয়। তবে যোগাযোগের ঘাটতি থাকলেও, সে চুক্তি ভঙ্গ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের কিছু একটা করতে হবে, তা যত ছোটই হোক না কেন। যাতে ভবিষ্যতে সে সচেতন থাকে। বোর্ড সভাপতিও চান, এই বার্তাটা খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছাক, যাতে তারা নিয়মকানুন সঠিকভাবে মেনে চলে।’
তিনি বলেন, ‘বলা যায়, কোনো খেলোয়াড়ের শৃঙ্খলাভঙ্গ বোর্ড বরদাশত করবে না। খেলোয়াড় যত বড়ই হোক না কেন, কিছু যায় আসে না।’
আলমগীর বলেন, ‘আমি লিটনকে বলেছি বিষয়টা ব্যক্তিগতভাবে না নিতে। শৃঙ্খলাজনিত বিষয়ে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে খেলোয়াড়দের কাছে স্পষ্ট বার্তা দিতেই আমরা এটা করছি।’ তিনি আরও জানান, বিসিবির আচরণবিধি অনুযায়ী লিটনের শাস্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শৃঙ্খলা কমিটি।

