22 Jul 2026, Wed

অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে ঝিনুকের নির্যাস , বলছে গবেষণা

ইতালির ইউনিভার্সিটি অব ফেরারার গবেষকদের এক পরীক্ষাগারভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাসিফিক ঝিনুক থেকে প্রাপ্ত একটি নির্যাস অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই নির্যাস ভবিষ্যতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় দেখা যায়, পরীক্ষাগারে অন্ত্রের কোষের ওপর প্রয়োগের পর ঝিনুকের নির্যাস প্রদাহের মাত্রা কমিয়েছে। গবেষকদের ধারণা, এটি অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী অন্ত্রের প্রদাহকে কোলোরেক্টাল ক্যানসার, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (আইবিডি), টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।

গবেষণায় অন্ত্রের সুরক্ষামূলক বাধা বা ‘গাট ব্যারিয়ার’-এর গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, যা সাধারণভাবে ‘লিকি গাট’ নামে পরিচিত, তখন ব্যাকটেরিয়া ও বিষাক্ত উপাদান রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে শরীরজুড়ে প্রদাহ সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

গবেষকরা জানান, স্থায়ী অন্ত্রের প্রদাহকে ৫০ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের হার বৃদ্ধির সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
তাদের মতে, ঝিনুক প্রাকৃতিকভাবে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি-১২, আয়রন ও সেলেনিয়ামের সমৃদ্ধ উৎস। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ গবেষণাটি শুধুমাত্র পরীক্ষাগারে পরিচালিত হয়েছে, মানুষের ওপর নয়। তাই এই ফলাফলকে প্রাথমিক পর্যায়ের বলে বিবেচনা করা উচিত।

তারা বলেন, ঝিনুক বা ঝিনুকজাত পণ্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রদাহ কমানো কিংবা ক্যানসারসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত মানবভিত্তিক ক্লিনিক্যাল গবেষণা প্রয়োজন।

গবেষকদের ভাষ্য, এই ফলাফলকে ঝিনুক খেলে ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়—এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং ঝিনুকে থাকা কিছু উপাদানের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।

সূত্র: সামা টিভি অনলাইন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *