26 Jul 2026, Sun

সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগছে? জানুন কারণ

অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সারাদিন ক্লান্তি, অবসাদ ও শক্তিহীনতায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সমস্যার পেছনে শুধু মানসিক চাপ বা বয়স নয়, শরীরের কোষে শক্তি উৎপাদনের ঘাটতিও দায়ী হতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় কোষীয় ক্লান্তি (সেলুলার ফ্যাটিগ)।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শরীরের প্রতিটি কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি উৎপাদনের কাজ করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে মাইটোকন্ড্রিয়া ঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি তৈরি করতে পারে না। ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও মানুষ সারাক্ষণ ক্লান্ত অনুভব করতে পারেন।

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অনিদ্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়ামের অভাব এবং বয়স বৃদ্ধির কারণে মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এর ফলে সিঁড়ি ভাঙা, অফিসের কাজ করা বা দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখার মতো সাধারণ কাজও কঠিন মনে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোষীয় ক্লান্তির লক্ষণ শুরুতে খুব একটা স্পষ্ট হয় না। ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ, মনোযোগের ঘাটতি, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এবং শরীরের ধীরে সুস্থ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে এমন ক্লান্তি থাকলে তা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি সিনড্রোম, স্নায়বিক রোগ, অটোইমিউন রোগ, বিষণ্নতা এবং দ্রুত বার্ধক্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা আরও বলেন, ক্লান্তির কারণ সব সময় এক নয়। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, সংক্রমণ, পুষ্টির ঘাটতি, ঘুমের ব্যাধি কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাও এর পেছনে থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *