ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকেই মনে করেন, ভাত বা রুটি খেলেই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাবে। তাই অনেকেই প্রিয় খাবার এড়িয়ে চলেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কোন ক্রমে খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের একটি সহজ কৌশল অনুসরণ করলে ভাত-রুটি খেয়েও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ফুড সিকোয়েন্সিং’ বা খাবার গ্রহণের সঠিক ক্রম। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথমে ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার, এরপর প্রোটিন এবং সবশেষে কার্বোহাইড্রেট খেলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক কম বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভাত বা রুটি খাওয়ার ৫ থেকে ১০ মিনিট আগে এক বাটি স্যালাড খেতে পারেন। স্যালাডে শসা, টমেটো, গাজর, ক্যাপসিকাম, বাঁধাকপি, লেটুস বা অন্যান্য সবুজ শাকপাতা রাখা ভালো। এসব খাবারে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে, ফলে কার্বোহাইড্রেট থেকে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে মেশে এবং হঠাৎ সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
স্যালাডের পর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার—যেমন ডাল, মাছ, ডিম, মুরগির মাংস, ছোলা, সয়াবিন বা টক দই খাওয়া উপকারী। প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং কার্বোহাইড্রেটের শোষণের গতিও কিছুটা কমিয়ে দেয়। এরপর পরিমিত পরিমাণে ভাত বা রুটি খাওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটাচলা করলে পেশি রক্তের গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে, যা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। প্লেটের অর্ধেকজুড়ে শাকসবজি, এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ কার্বোহাইড্রেট রাখার পরামর্শও দেন পুষ্টিবিদরা।
তবে মনে রাখতে হবে, শুধু স্যালাড খেলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ সমানভাবে জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস মানেই ভাত-রুটি পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়। বরং সঠিক পরিমাণ, সঠিক সময় এবং সঠিক ক্রমে খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটাই সহজ হতে পারে।

