১১ ফেব্রু ২০২৬, বুধ

দুই দেশের যুদ্ধ থামানোর প্রতিস্রুতি দিলেন ডোনাল ট্রাম্প

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার নতুন সীমান্ত সংঘাত বন্ধ করতে ফোন করবেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন। গত জুলাইয়েও এই দুই দেশের মধ্যে পাঁচ দিনের যুদ্ধ বন্ধ করতে ট্রাম্প মধ্যস্থতা করেছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার পেনসিলভানিয়ায় এক জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সংঘাত আজই শুরু হয়েছে। আগামীকাল আমাকে ফোন করতে হবে। আর কে বলতে পারবে, আমি শুধু একটি ফোন কলেই দুই শক্তিশালী দেশ, থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার যুদ্ধ থামাতে পারব।’

ট্রাম্প গত জুলাইয়ে দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ও বাণিজ্য আলোচনার প্রভাব ব্যবহার করে যুদ্ধবিরতি করেছিলেন। ওই সময়ের লড়াইয়ে অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়েছিল।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সীমান্ত সংঘাতে কোনো আলোচনার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না এবং পরিস্থিতি তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার জন্য উপযোগী নয়। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেটের একজন শীর্ষ উপদেষ্টা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের যে কোনো সময় আলোচনায় বসার প্রস্তুতি রয়েছে।’

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও জানান, তার দেশকে আলোচনায় বাধ্য করার জন্য শুল্ক হুমকি ব্যবহার করা উচিত নয়। গত মাসে থাইল্যান্ড অক্টোবরে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে নেওয়া শান্তি চুক্তি বাতিল করার পর সীমান্তে সংঘাত আবার বেড়ে গেছে।

থাইল্যান্ডের দাবি, কম্বোডিয়া নতুনভাবে স্থাপিত মাইনের আঘাতে একজন সেনাকে আহত হয়েছে। তবে কম্বোডিয়া তা অস্বীকার করছে। উভয় দেশ সীমান্ত এলাকায় শত শত হাজার মানুষকে সরিয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার থেকে ৯ জন নাগরিক নিহত এবং ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। থাইল্যান্ড জানিয়েছে, ৪ সেনা নিহত এবং ৬৮ জন আহত।

থাইল্যান্ডের সেনারা জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য কম্বোডিয়ার হামলা ঠেকানো। সোমবার একজন শীর্ষ জেনারেল বলেছেন, ‘সেনার উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘ সময়ের জন্য কম্বোডিয়ার সামরিক ক্ষমতা দুর্বল করা।’

কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বাধ্য হয়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছে এবং থাইল্যান্ডকে নাগরিক এলাকার ওপর নির্বিচারে ও নির্মমভাবে গোলাবর্ষণ করার অভিযোগ করেছে। তবে থাইল্যান্ড এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র : আল-অ্যারাবিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *