১১ ফেব্রু ২০২৬, বুধ

নেইমার চুপ থাকা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা কল্পনা

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রকে জড়িয়ে সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন বেড়েছে। কেননা খুব শিগগিরই ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে তার। পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। কয়েকদিন আগেও সাবেক বার্সেলোনা তারকা জানিয়েছেন, কোথায় যাবেন এবং ভবিষ্যত কেমন হবে, তা অজানা তার।

ব্রাজিল ও ইউরোপ ভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, ইন্টার মিয়ামিতেই যেতে পারেন নেইমার। সাবেক সতীর্থ লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজও চাচ্ছেন, তিনি যেন মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) পা বাড়ান।

এরইমধ্যে বুধবার সান্তোসের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো তেইশেইরা জানিয়েছেন, নেইমার স্বদেশি ক্লাবেই থাকবেন।

তিনি বলেন, “নেইমারের চুক্তি নবায়ন এখন সান্তোসের জন্য অগ্রাধিকার। তবে সবকিছুই বাজেটের ওপর নির্ভর করছে। আমরা এমন বাজেট রেখেছি যা আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে। আমরা আলোচনা চালাচ্ছি যাতে নেইমারের বর্তমান চুক্তি ২০২৬ পর্যন্ত মানিয়ে নেওয়া যায়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কিছু চুক্তি নবায়ন নিয়ে ভাবছি, বিশেষ করে নেইমারের। আমরা আত্মবিশ্বাসী এ ব্যাপারে। নেইমারের পরিকল্পনাও আগামী বছরের বিশ্বকাপ কেন্দ্র করে। এই সংলাপের উদ্দেশ্য যাতে সে আমাদের সঙ্গেই থাকে।”

চুক্তি নবায়ন কিংবা নতুন ক্লাব নিয়ে এখন পর্যন্ত চুপচাপ নেইমার। চুক্তি নবায়ন বা নতুন ক্লাব—এসবের কিছু নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন না তিনি। সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেইমারকে নিজের ফিটনেসের দিকে নজর দেওয়া উচিত। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কেউ যদি পুরোপুরি ফিট না থাকে, তবে দলের সঙ্গে নেবেন না।

নেইমার নিজের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে হাটুর অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও চোট ও সার্জারির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। তবুও তিনি আত্মবিশ্বাসী যে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের ব্রাজিল স্কোয়াডে থাকবেন।

নেইমার এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে তিনটি বিশ্বকাপে খেলেছেন। ২০১৪ সালে চারটি গোল করেছিলেন, কিন্তু চোটে টুর্নামেন্ট শেষ করতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে ব্রাজিল সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭–১ গোলে হারে। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি দুইটি করে গোল করেছেন, কিন্তু ব্রাজিল দুবারই কোয়ার্টার ফাইনালে ছিটকে যায়।

বর্তমানে ৩৩ বছর বয়সী নেইমার ২০২৩ সালের পর থেকে জাতীয় দলে খেলেননি। ব্রাজিল দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, এস্তেভাও ও রাফিনিয়ার মতো তরুণ ও অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রয়েছে। তবুও নেইমার আশা করছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আরও বড় কিছু অর্জন করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *