ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের স্থগিত ভর্তি পরীক্ষা ২৭ ডিসেম্বর নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। কারণ একই দিনে দেশের আরেকটি শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) ভর্তি পরীক্ষাও পূর্বনির্ধারিত রয়েছে।
এমআইএসটির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি একই দিনে বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আর্কিটেকচার বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষার সময়সূচিও নির্ধারিত ছিল। তবে ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এমআইএসটি জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কেবল স্থাপত্য বিভাগের দ্বিতীয় পর্বের (ব্যবহারিক) পরীক্ষা ২৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২৮ ডিসেম্বর বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত স্থানান্তর করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিং এবং স্থাপত্য বিভাগের প্রথম পর্বের লিখিত পরীক্ষা আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৭ ডিসেম্বর সকালেই অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে ২৮ ডিসেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের (গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদ এবং ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি) ভর্তি পরীক্ষা চারটি শিফটে সকাল ১০টা ২৫ মিনিট থেকে বেলা ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা রয়েছে। ফলে টানা দুই দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষার সূচি একে অন্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়েছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজধানীর তীব্র যানজটের মধ্যে আনুমানিক ১৪ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে একই দিনে ধারাবাহিক ও সময়সাপেক্ষ একাধিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা বাস্তবসম্মত নয়। বিশেষ করে ২৭ ডিসেম্বর সকালে এমআইএসটির পরীক্ষা দিয়ে বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষায় উপস্থিত হওয়া অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই প্রায় অসম্ভব। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ সময়সূচির কারণে তারা যোগ্যতা ও প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও কেবল একটি তারিখের কারণে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাতে বাধ্য হচ্ছেন। চলতি বছরে বিভিন্ন কারণে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তার ওপর একই দিনে একাধিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, অভিভাবকরাও চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশার মধ্যে রয়েছেন। অভিভাবকদের মতে একটি তারিখের সংঘাতে মেধা ও পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্যায়ন থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিটের ২০ ডিসেম্বরের পরীক্ষা স্থগিত হয়। ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীরা মানবিক ও সময়োপযোগী হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তবে নতুন তারিখ নির্ধারণের ফলে যে সমন্বয়হীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার ফলে সংকটে পড়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের পরীক্ষার তারিখ পুনর্বিবেচনা করে পুনর্নির্ধারণ করা হোক। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, একটি সহানুভূতিশীল ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সম্ভব হবে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞান ইউনিটের প্রথম বর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষা ২৭ ডিসেম্বর বেলঅ সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন এমআইএসটির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী যেসব শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তন করে ঢাকায় স্থানান্তর করেছেন, তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে মিরপুর ও ফার্মগেট এলাকায় তিনটি অতিরিক্ত কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমআইএসটি থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ ও সুবিধাজনক করতে মেট্রোরেলের সময় ব্যবধান কমানো হয়েছে। এদিন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত মেট্রোরেল চলাচল করবে।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ২৭ তারিখ অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে ২৮ তারিখ এমআইএসটি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা একই দিনে হওয়ার বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসেনি। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন এ বিষয়ে শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্তে আসবে।

