১০ ফেব্রু ২০২৬, মঙ্গল

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা লাখে কত কমল?

ছয় মাসের ব্যবধানে আবারও জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমিয়েছে সরকারএর ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে এক লাখ টাকা বিনিয়োগে মাসিক মুনাফা ১১০ টাকা কমে যাবে

আগে পরিবার সঞ্চয়পত্রে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে ৯৪৪ টাকা পাওয়া যেত, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ টাকায়। এতে সঞ্চয়পত্রের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।

আগামী ছয় মাসের জন্য সঞ্চয়পত্রের সংশোধিত মুনাফার হার ঘোষণা করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (ইআরডি)। নতুন হার ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর আগেও গত জুলাই মাসে মুনাফার হার কমানো হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর এ হার পর্যালোচনা করা হয়।

নতুন সিদ্ধান্তে দেখা যাচ্ছে, কম অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি মুনাফা দেওয়া হচ্ছে, আর বেশি বিনিয়োগে হার কম রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ অঙ্ক পর্যন্ত বিনিয়োগে বেশি মুনাফা মিলবে, এর বেশি হলে হার কমে যাবে। সরকারের আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই নিয়মিতভাবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোর উদ্দেশ্য মূলত ব্যাংক আমানত বাড়ানো এবং ব্যাংক ঋণের সুদ কমিয়ে আনা। এতে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর ফলে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কারণ দেশে তাদের জন্য নিরাপদ বিকল্প বিনিয়োগ খুবই সীমিত।

নতুন হারে পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফা ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে এ হার কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও মুনাফার হার কমানো হয়েছে।

তবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে ইস্যু করা সঞ্চয়পত্রে ইস্যুকালীন নির্ধারিত মুনাফার হারই মেয়াদ পূর্তি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তখনকার নতুন হার প্রযোজ্য হবে। ছয় মাস পর আবারও মুনাফার হার পর্যালোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির বড় একটি অংশ সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল। সংসারের খরচ চালানো কিংবা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন বছরের শুরুতেই এসব পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়ল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *