১০ ফেব্রু ২০২৬, মঙ্গল

যে ৫ দেশে সহজেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায়

বিনিয়োগ, পিতা-মাতার নাগরিকত্ব, বিয়ে বা একটি নির্দিষ্ট সময় আইন মেনে বৈধভাবে বসবাস করে একজন বিদেশি নাগরিক দ্বৈত নাগরিকত্ব পেতে পারেন। পছন্দের শীর্ষে থাকা অনেক দেশেই দেখা যায় নাগরিকত্ব পেতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়। তবে কোনো কোনো দেশে এটি সহজ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। এই দেশগুলোতে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলেই মিলবে নতুন পাসপোর্ট। চলুন জানা যাক এমন কয়েকটি দেশ সম্পর্কে, যেসব দেশে নাগরিকত্ব পাওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ।

১. আয়ারল্যান্ড

ইউরোপের ননসেনজেনভুক্ত দেশ আয়ারল্যান্ডে বংশানুক্রমের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ যদি কারও বাবা-মা বা দাদা-দাদি আয়ারল্যান্ডে জন্ম গ্রহণ করেন, তাহলে বংশধর হিসেবে সেই ব্যক্তি নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বিদেশি জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। আইরিশ নাগরিকত্ব ইইউ পাসপোর্ট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ প্রদান করে। আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে দ্বৈত জাতীয়তা বজায় রাখা যায়। কোনো ভাষা পরীক্ষারও প্রয়োজন হয় না।

১. ডোমিনিকা

ক্যারিবিয়ান দ্বীপদেশ ডোমিনিকায় বিনিয়োগের মাধ্যমে খুব সহজেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। মূলত দুইভাবে বিনিয়োগ করা যাবে। ইকোনমিক ডাইভারসিফিকেশন ফান্ড বা অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য তহবিলে ন্যূনতম বিনিয়োগ আর রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ।

এই দুই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে বিদেশি নাগরিকেরা কয়েক মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পেতে পারেন। ডোমিনিকায় নাগরিকত্ব পেলে ইউরোপের সেনজেন অঞ্চলের দেশগুলোসহ ১৪০টির বেশি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের অনুমতি মিলবে। এ প্রকল্পের আওতায় দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখা যায় এবং সেখানে বসবাসেরও প্রয়োজন হয় না।

৩. তুরস্ক

সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে তুরস্কের নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। কমপক্ষে চার লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের রিয়েল এস্টেট কিনলে কয়েক মাসের মধ্যে দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। তুরস্কে বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্বের জন্য নিজ দেশের নাগরিকত্ব বা আসল জাতীয়তা ত্যাগ করার প্রয়োজন হয় না।

নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে বসবাসের বাধ্যবাধকতাও নেই। অর্থাৎ চাইলে তুরস্কে না থেকেও নাগরিকত্ব ধরে রাখা যায়। তুরস্কের পাসপোর্ট নিয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দেশে ভিসামুক্ত ও অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা উপভোগ করা যায়।

৪. ভানুয়াতু

উন্নয়ন সহায়তা প্রোগ্রামের আওতায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুতে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। এ প্রক্রিয়ায় দুই মাসের কম সময়ে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। এ জন্য সরকারি তহবিলে ন্যূনতম বিনিয়োগ প্রয়োজন

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটি শতাধিক দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদান করে। ভানুয়াতুর নাগরিকত্বের বিপরীতে বিদেশি আয়ের ওপর কোনো প্রকার ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বা অন্য কোনো কর আরোপ করা হয় না। যাঁরা ন্যূনতম শর্তে দ্রুত নাগরিকত্ব পেতে চান, তাঁদের জন্য এই দেশ আদর্শ।

৫. পর্তুগাল

পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসা প্রোগ্রামটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়মকানুন মেনে পাঁচ বছর বৈধভাবে বাস করলে পর্তুগিজ সিটিজেনশিপের জন্য আবেদন করা যায়। তবে এ জন্য পর্তুগিজ ভাষা পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হয়

পর্তুগালে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড বা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে ইইউ নাগরিকত্বের সুযোগ রয়েছে। দ্বৈত নাগরিকেরা ভিসামুক্ত ভ্রমণ এবং সেনজেন দেশগুলোতে প্রবেশ করতে পারেন।

সূত্র: হাউ স্টাফ ওয়ার্কস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *