ক্যানসার মানেই মরণফাঁদ, জীবন নিয়ে টানাটানি, আতঙ্কিত জীবন। বর্তমান জীবনযাত্রায় যেসব মর্মান্তিক অসুখ আমাদের ভাবনায়, তার অন্যতম হচ্ছে— ক্যানসার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর মতে, দেশে প্রতিদিন ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও আধুনিক জীবনযাত্রার নানা ক্ষতিকারক দিকও এমন প্রাণঘাতী অসুখের দিকে ঠেলে দেয়। তাই জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ আনা ও ক্ষতিকারক অভ্যাসগুলো থেকে দূরে থাকা যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যোগ করা উচিত এমন কিছু খাবার, যা আপনার শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসার প্রতিরোধেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ভাজাপোড়া, তেল-মসলার খাবার কমিয়ে বরং ডায়েটে যোগ করুন এমন পুষ্টিকর কিছু উপাদান, যা এই প্রাণঘাতী রোগ ঠেকাতে অনেকটাই সাহায্য করবে আপনাকে।
এ বিষয়ে চিকিৎসক সৌরভ শেঠি তার সামাজিক মাধ্যমের পাতায় এমন কয়েকটি খাবারের কথা বলেছেন, যা আপনার ক্যানসার ঠেকিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
তিনি বলেন, ব্রকোলি, বাঁধাকপি আর ফুলকপি ক্যানসার ঠেকাতে পারে। এসব সবজি সালফোরাফেন নামক প্রাকৃতিক যৌগ থাকে, যাতে ক্যানসার-রোধী গুণাগুণ রয়েছে। এ যৌগ বিশেষ করে স্তন ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই কয়েকটি সবজি রাখা যেতেই পারে।
তবে যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, তাদের ডায়েটে এ সবজিগুলো রাখলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে রান্নার সময় কিছু নিয়ম মেনে চললে গ্যাসের সমস্যা খানিকটা হলেও এড়িয়ে চলা সম্ভব।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন কোন পন্থা মেনে চললেই মুশকিল আসান হবে—
১. ফুলকপি রান্নার ক্ষেত্রে সবজিটি আধাঘণ্টা আগেই কেটে রেখে দিন। আগে থেকে কাটা থাকলে ফুলকপিতে থাকা উৎসেচকগুলো বাতাসে বেরিয়ে যাবে। ফলে রান্নার পর গ্যাস হওয়ার প্রবণতা কমবে।
২. ফুলকপি রান্নার আগে ভালো করে ভাপিয়ে নিয়ে সেই পানি ফেলে দিতে হবে। এরপর ভাপানো ফুলকপি অল্প তেলে ভালো করে ভেজে নিয়ে তারপরেই রান্না করতে হবে। এভাবে খেলে আপনার ক্যানসার নিরাময়ে ভালো কাজ করবে।
৩. ফুলকপি রান্নার সময় হজমে সাহায্যকারী কিছু মসলা, যেমন— জিরা, মৌরি, হিং, ধনেয়অ, আদা ব্যবহার করুন। এতে রান্নার স্বাদও বাড়বে আর পেটফাঁপার সমস্যাও এড়িয়ে চলতে পারবেন।
৪. জানা দরকার, পানি খেলেও হজমের সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। যেদিন ফুলকপি খাবেন, সেদিন বেশি করে পানি খেতে ভুলবেন না যেন। শুধু পানি খেতে ইচ্ছে না করলে ভেষজ চা ও মৌরি ভেজানো পানিও বারবার করে খেতে পারেন।
৫. হজমে সাহায্য করে প্রোবায়োটিক খাবার। দই প্রোবায়োটিকের খুব ভালো উৎস। তাই ফুলকপি রান্নার সময় দই ব্যবহার করা যেতে পারে। আর রান্নায় ব্যবহার না করলেও খাওয়ার পর দই খেয়ে নিলেও উপকার পাবেন।

