১১ ফেব্রু ২০২৬, বুধ

ফিরছেন তমা, সঙ্গী মোশাররফ ও রাজ

গত বছরে প্রেক্ষাগৃহে মাত্র একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। এক দাগি দিয়েই দর্শক সমালোচকদের নজর কাড়েন তমা মির্জা। নতুন বছরে দুটি সিনেমায় অভিনয় করছেন। তাঁর আরও খবর জানাচ্ছেন মনজুর কাদের
নতুন বছরে যে দুটি সিনেমায় তমা মির্জাকে দেখা যাবে, তার একটি পরিচালনা করছেন গোলাম সোহরাব দোদুল, নাম ‘জলযুদ্ধ’। অন্যটির পরিচালক হাসান মোরশেদ। তবে এখনই ছবিটির নাম প্রকাশ করতে চান না নির্মাতা। পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, একটি ছবিতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়ে গেছে, অন্যটিতে মৌখিক কথাবার্তা চূড়ান্ত।

জানা গেছে, দোদুল পরিচালিত ছবিতে মোশাররফ করিমের বিপরীতে অভিনয় করবেন তমা মির্জা। আর হাসান মোরশেদের ছবিতে তাঁর সহশিল্পী শরীফুল রাজ।
তবে এসব বিষয়ে আপাতত মুখ খুলতে রাজি নন তমা। দুই ছবির পরিচালকের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়েছে, এমনটা বলার পর তমা বললেন, ‘দুটি ছবির গল্প শুনেছি। দুটিই দুর্দান্ত। এ ধরনের গল্প আর পরিচালকের ভাবনার সঙ্গে যেকোনো অভিনয়শিল্পীই যুক্ত হতে চাইবে। এর বেশি আপাতত কিছুই বলতে পারব না। পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে জানালেই সবাই জানতে পারবেন।’

হাসান মোরশেদের ছবির শুটিং এ মাসেই শুরু হওয়ার কথা। তবে তমা ও রাজের অংশের শুটিং এখনই হচ্ছে না। অন্যদিকে দোদুল তাঁর ছবির শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বেশির ভাগ শিল্পীই চূড়ান্ত হয়ে গেছে, কলাকুশলী ও টিমের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

‘দুই বন্ধু’র অপেক্ষা

ওপার বাংলার নির্মাতা অঞ্জন দত্তের পরিচালনায় ‘দুই বন্ধু’ ওয়েব সিরিজেও অভিনয় করেছেন তমা মির্জা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কলকাতায় টানা ৯ দিন শুটিং করেন তিনি। তবে সিরিজটি এখনো মুক্তি পায়নি। এটির মুক্তির অপেক্ষায়ও আছেন। অঞ্জন দত্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তমা বলেন, ‘কলকাতার কোনো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করিনি। শুরুতে একটু ভয় ছিল। কিন্তু অভিজ্ঞতাটা অসাধারণ। তিনি যেমন দারুণ পরিচালক, তেমনি অসাধারণ মানুষ। ক্যাপ্টেন অব শিপ হিসেবে আমাকে মুগ্ধ করেছেন।’ কলকাতায় কাজের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্ট তমা। বললেন, ‘এক শিফট করে কাজ হয়েছে। টিম খুব গোছানো। সবাই জানে কে কী করবে। অনেক কিছু শিখেছি।’

বদলে যাওয়া তমা

কাজের বাইরে সময় পেলেই পরিবারকে সময় দেন তমা মির্জা। গান শোনা, বই পড়া, সিনেমা দেখা, রান্না করা—সবই তাঁর ভালো লাগে। রান্নাকে তিনি শিল্পের মতোই দেখেন। ‘গরু, মুরগি, হাঁস, খাসি—সব মাংসের কারি ভালো করি। রান্না করে খাওয়াতে আনন্দ পাই,’ বললেন তমা। একা থাকতেও ভালোবাসেন তিনি। বললেন, ‘একাকিত্ব আমাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। এক কাপ চা হাতে নিয়ে নিজের ভেতরে হাঁটি। কী ভুল করেছি, কী ঠিক করা যায়—এসব ভাবি।’
২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত ‘নদীজন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তমা মির্জা। তবে সে সময় তিনি গতানুগতিক নায়িকা চরিত্রে সীমাবদ্ধ ছিলেন। রায়হান রাফী তাঁকে নতুন করে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেন। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ ওয়েব ফিল্মে নিজেকে ভেঙে হাজির হন। পরে ‘সাত নম্বর ফ্লোর’ দিয়ে আবার আলোচনায় আসেন। ‘ফ্রাইডে’, ‘সুড়ঙ্গ’ এবং সর্বশেষ শিহাব শাহীনের ‘দাগি’—সব কটিতেই প্রশংসিত হয়েছে তাঁর অভিনয়।

এবার নতুন দুই পরিচালক, নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও নতুন সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন—সব মিলিয়ে তমা মির্জার সামনে অপেক্ষা করছে আরেকটি ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বছর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *