১০ ফেব্রু ২০২৬, মঙ্গল

গাজায় তিন সাংবাদিকসহ নিহত ১১

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি হামলায় বুধবার গাজা উপত্যকাজুড়ে অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজার বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব হামলায় আরো ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে হামলার নির্দিষ্ট স্থান ও নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানান, দক্ষিণ গাজায় চালানো ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে তিনজন সাংবাদিক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসরায়েলি বাহিনী দেইর আল-বালাহ শহরের পূর্বাঞ্চলে গোলাবর্ষণ চালায়, এতে অন্তত তিনজন নিহত হন। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির পরও প্রতিদিন ইসরায়েলের এমন হামলা চলছেই। এ ছাড়া গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলেও বিমান হামলা চালানো হয়।

চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, গাজা সিটিতে আরো তিনজন এবং দক্ষিণ গাজায় আরো তিনজন নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তর গাজা ও গাজা সিটিতে দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েলি বাহিনী উত্তরাঞ্চলের শেখ জায়েদ এলাকার পূর্বদিকে অবশিষ্ট ভবন ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়।

এদিকে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর জাহাজগুলো গাজা সিটির উপকূলে মেশিনগান দিয়ে গুলি চালায়। পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও সামরিক যান থেকে শহরের পূর্বাঞ্চলে গুলিবর্ষণ করা হয়।

দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি সামরিক যান থেকে ভারী গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের তথাকথিত বাফার জোন এবং উত্তর গাজার বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এতে গাজার মোট ভূখণ্ডের ৫০ শতাংশের বেশি এলাকা কার্যত দখলদারিত্বের মধ্যে রয়েছে।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে, যা টানা দুই বছর ধরে চলে, এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।

২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেও ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২৮৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া গাজায় খাদ্য, আশ্রয় সামগ্রী ও চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফলে প্রায় ২৪ লাখ বাসিন্দা ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *