এক রাতেই যেন সব হিসাব পাল্টে দিল বেনফিকা। নকআউট পর্বে ওঠার দৌড়ে কোনোমতে টিকে থাকা দলটি শেষ ম্যাচে পেয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকে। কঠিন সেই পরীক্ষায় দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে স্প্যানিশ জায়ান্টদের ৪-২ গোলে হারিয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করেছে জোসে মরিনহোর দল।
লিসবনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গোলরক্ষক অ্যানাটলি ত্রুবিন যোগ করা সময়ে হেডে জয়সূচক গোল করেন। তার সেই গোলেই রিয়ালের বিপক্ষে নাটকীয় জয় পায় বেনফিকা। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের ২৪ নম্বরে থেকে লিগপর্ব শেষ করেছে তারা, যা নকআউটের শেষ যোগ্যতা। এখন শেষ ষোলোতে উঠতে হলে তাদের খেলতে হবে দুই লেগের প্লে-অফ ম্যাচ।
অন্যদিকে, এই ম্যাচের আগে টেবিলের তিন নম্বরে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ ছিল সরাসরি শেষ ষোলোতে ওঠা আট দলের একটি হওয়ার দৌড়ে। কিন্তু হারের ফলে তারা নেমে গেছে নবম স্থানে। ফলে বেনফিকার মতো তাদেরও এখন প্লে-অফ খেলতে হবে। সেখানে প্রতিপক্ষ হতে পারে বেনফিকা কিংবা বোদো/গ্লিমটের যে কোনো একটি দল।
ম্যাচের শুরুটা ভালোই করেছিল রিয়াল। ৩০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় তারা। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি স্প্যানিশ ক্লাবটি। ৩৬ মিনিটে ২১ বছর বয়সি আন্দ্রেস শেলডেরাপ গোল করে বেনফিকাকে সমতায় ফেরান। প্রথমার্ধের শেষভাগে আবারও গোল করে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটের মধ্যেই নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন শেলডেরাপ।
৫৮ মিনিটে এমবাপ্পে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচে ফেরান রিয়ালকে। তখন সমীকরণ ছিল জটিল—রিয়ালের সামনে শেষ আটে ঢোকার সুযোগ, বেনফিকার সামনে নকআউট নিশ্চিত করার হাতছানি। সেই উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে যোগ করা সময়ে গোলরক্ষক ত্রুবিনের হেডে গোলই সব বদলে দেয়। বেনফিকা উঠে যায় ২৪ নম্বরে, আর রিয়াল নেমে যায় ৯-এ।
রিয়ালের মতো সেরা আটে থাকার সুযোগ ছিল পিএসজি ও নিউক্যাসলেরও। তবে নিজেদের মুখোমুখি ম্যাচটি ড্র হওয়ায় পিএসজি নেমে গেছে ১১ নম্বরে, নিউক্যাসল ১২ নম্বরে। তাদেরও এখন প্লে-অফ খেলতে হবে। একই পথে যেতে হচ্ছে ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ, আটালান্টা, লেভারকুসেন, ডর্টমুন্ড, অলিম্পিয়াকোস, ক্লাব ব্রুগ, গালাতাসারাই, মোনাকো ও কারাবাগকে।

