ডিম শুধু শরীরের জন্যই নয়, চুলের যত্নেও দারুণ কার্যকর। নির্জীব ও রুক্ষ চুলে প্রাণ ফেরানোর পাশাপাশি চুল পড়া কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ডিমের হেয়ার প্যাক। নিয়মিত কাঁচা ডিম ব্যবহার করলে চুল হয় নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
ডিমে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় মিনারেল। পাশাপাশি এতে থাকা ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স ও বায়োটিন চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ডার্মাটোলজি অ্যান্ড থেরাপি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত ডিম ব্যবহার করলে চুল পড়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
চলুন জেনে নিই চুলের যত্নে ডিম ব্যবহারের কয়েকটি সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া উপায়—
ডিম ও দুধ
চুলে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে এই হেয়ার মাস্ক বেশ উপকারী। এটি চুলকে করে শক্ত ও প্রাণবন্ত।
যেভাবে তৈরি করবেন:
একটি পাত্রে ২টি ডিম ফাটিয়ে নিন। এর সঙ্গে মেশান ১ টেবিল চামচ মধু এবং ১ টেবিল চামচ দুধ বা টক দই। সব উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন।
ব্যবহারবিধি:
মাস্কটি পুরো চুল ও মাথার তালুতে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ডিম ও অলিভ অয়েল
চুলের গোড়া শক্ত করতে ডিমের সঙ্গে অলিভ অয়েল অসাধারণ কাজ করে। অল্পদিনেই চুলে পরিবর্তন চোখে পড়বে।
যেভাবে তৈরি করবেন:
একটি পাত্রে ১টি ডিম ফাটিয়ে তার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মেশান। ভালো করে মিশিয়ে হেয়ার মাস্ক তৈরি করুন।
ব্যবহারবিধি:
মাস্কটি চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু করে নিন।
ডিম, কলা ও মধু
চুল যদি হয়ে পড়ে শুষ্ক ও প্রাণহীন, তবে এই হেয়ার মাস্ক হতে পারে দারুণ সমাধান। এটি চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।
যেভাবে তৈরি করবেন:
একটি পাকা কলা ভালো করে চটকে নিন। এতে যোগ করুন ৩ টেবিল চামচ দুধ ও ৩ টেবিল চামচ মধু। এরপর একটি ডিম মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন।
ব্যবহারবিধি:
মাস্কটি চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু করে নিন। ব্যবহার শেষে পার্থক্য আপনি নিজেই টের পাবেন।

