৫ মার্চ ২০২৬, বৃহঃ

গেঁটে বাত কেন হয়, লক্ষণ ও প্রতিকার

গাউট বা গেঁটে বাত একটি বহুল পরিচিত রোগ। গাউট একটি মেটাবলিক ও প্রদাহজনিত রোগ, যা সঠিক সময়ে নিয়ন্ত্রণ না করলে চলাফেরা, কাজকর্ম ও জীবনযাত্রার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

গাউট কেন হয়?

গাউটের মূল কারণ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বাড়তি হলে তা ধীরে ধীরে সুচের মতো ধারালো স্ফটিক আকারে জয়েন্টে বা অস্থিসন্ধিতে জমা হয়। শরীর এই স্ফটিককে ‘বহিরাগত বস্তু’ মনে করে তীব্র প্রদাহ তৈরি করে। ফলে হঠাৎ মারাত্মক ব্যথা শুরু হয়।

  • কিছু কারণে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে। এর মধ্যে রয়েছে—
  • অতিরিক্ত লাল মাংস, কলিজা, গিলা, শুঁটকি, সামুদ্রিক মাছ খাওয়া।
  • অ্যালকোহল গ্রহণ, বিশেষ করে বিয়ার পান।
  • পানি কম পান করা, স্থূলতা ও মেটাবলিক সিনড্রোমের কারণেও হয়।
  • উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ ও কিছু কিছু ওষুধ সেবনেও হতে পারে।
  • বংশের কারও থাকাটাও একটা কারণ।

গাউটের লক্ষণ

  • গাউট সাধারণত হঠাৎ করে শুরু হয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাতে বা ভোরের দিকে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—
  • হঠাৎ জয়েন্টে তীব্র ব্যথা যা সহ্য করা কঠিন হয়ে যায়।
  • জয়েন্ট লাল ও গরম হয়ে ফুলে যায়।
  • স্পর্শ করলে অসহনীয় ব্যথা হতে পারে।
  • প্রথমে সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙুলের গোড়ায়, পরে হাঁটু, গোড়ালি, কবজি ও কনুই আক্রান্ত হতে পারে।
  • দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে জয়েন্টের চারপাশে শক্ত গাঁট তৈরি হয়।
  • চলাফেরা ও স্বাভাবিক কাজকর্মে মারাত্মক অসুবিধার মুখে পড়তে হয়।

ফিজিয়াট্রিক ব্যবস্থাপনা

গাউটের চিকিৎসায় শুধু ব্যথা কমানো যথেষ্ট নয়। একজন ফিজিয়াট্রিস্টের মূল লক্ষ্য হলো ব্যথা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অস্থিসন্ধির সুরক্ষা, স্বাভাবিক চলাফেরা ও কাজের ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা।

  • তীব্র ব্যথার সময় আক্রান্ত জয়েন্টকে বিশ্রাম দিতে হবে।
  • প্রয়োজনে ঠান্ডা সেঁক বা আইস প্যাক দেওয়া যেতে পারে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক, স্টেরয়েড, কোলচিসিন সেবন করতে পারেন।
  • অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া এড়িয়ে চলতে হবে।
  • এ সময় ভারী ব্যায়াম বা জোরে হাঁটা নিষেধ।

করণীয়

  • গাউট নিয়ন্ত্রণে দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • নিয়মিত হাঁটা ও চলাফেরা করতে হবে।
  • নরম ও আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন।
  • প্রয়োজনে হাঁটার সময় লাঠি সঙ্গে রাখুন।
  • নিচু চেয়ারে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না।
  • প্রয়োজনে উঁচু চেয়ার বা নামাজ চেয়ার ব্যবহার করুন।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান (কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই লিটার) করুন।
  • লাল মাংস খাওয়া কমাতে হবে।
  • অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করা যাবে না।
  • ফল, শাকসবজি ও কম চর্বিযুক্ত খাবার বেশি করে খান।
  • সুস্থ জীবনযাপন করতে হবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • নিয়মিত হালকা ব্যায়াম (ব্যথা না থাকলে) করুন।
  • দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা এড়িয়ে চলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *