6 Aug 2026, Thu

ইন্টারকে হারিয়ে রূপকথার গল্প লিখল বোডো/গ্লিমট

চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের অন্যতম সেরা চমক দেখাল নরওয়ের অখ্যাত ক্লাব বোডো/গ্লিমট। মঙ্গলবার রাতে সান সিরোতে গত মৌসুমের রানার্সআপ ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় উঠেছে দলটি।

নকআউটে ওঠার এই প্লে অফ পর্বে দুই লেগ মিলিয়ে বোডো/গ্লিমটের জয় ৫-২ গোলে। নরওয়েজীয় এই ক্লাবের ইতিহাস গড়ার রাতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে নিউক্যাসল ইউনাইটেড, আতলেতিকো মাদ্রিদ ও বায়ার লেভারকুসেন।

আর্কটিক সার্কেলে উত্তরের বোডো শহরের ক্লাব বোডো/গ্লিমট ঘরের মাঠে প্রথম লেগে ৩-১ গোলে জিতে চমক দেখিয়েছিল। সেই সঙ্গে দিয়ে রেখেছিল আরও বড় কিছু করার আভাসও। সান সিরোতে সেই বড় কিছুই উপহার দিল ক্লাবটি। সিরি ‘আ’ পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা ইন্টার এই ম্যাচ দিয়ে ইউরোপিয়ান মঞ্চে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় ছিল; কিন্তু তাদের কোনো সুযোগই দিল না বোডো/গ্লিমট।
এই ম্যাচে প্রথমার্ধে গোল পায়নি কোনো দল। দ্বিতীয়ার্ধে ৫২ মিনিটে সান সিরোকে স্তব্ধ করে বোডো/গ্লিমটকে এগিয়ে দেন ইয়েনস পেতের হাউগে। ম্যানুয়েল আকাঞ্জির ভুলে ওলে ব্লমবার্গ প্রথমে শট নেন, তা ঠেকালেও ফিরতি বলে গোল করেন হাউগে। এরপর ৭২ মিনিটে হাকন এভিয়েন ব্যবধান ২-০ করেন (দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১) বোডো/গ্লিমটের হয়ে। ৭৬ মিনিটে আলেসান্দ্রো বাস্তোনি একটি গোল শোধ করলেও ইন্টারের পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি।
গত পাঁচ মৌসুমে চারবার নরওয়ের শীর্ষ লিগ এলিতেসেরিয়েন জেতা বোডো/গ্লিমট এবার শিরোপা হাতছাড়া করেছিল ভাইকিং স্টাভানগারের কাছে। তবে সেই যন্ত্রণা তারা যেন চ্যাম্পিয়নস লিগ দিয়ে পুষিয়ে নিল। এ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার এসেই গড়ল ইতিহাস। ১৯৯৭ সালে রোজেনবর্গ চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর এই প্রথম কোনো নরওয়েজিয়ান ক্লাব ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে এত দূর গেল।

পাশাপাশি ইউরোপিয়ান শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরে প্রথম কোনো ক্লাব হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দলগুলোর বিপক্ষে টানা চার ম্যাচ জিতল তারা। লিগ পর্বে গত মাসে ঘরের মাঠে সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল বোডো/গ্লিমট। এরপর তারা হারায় আতলেতিকো মাদ্রিদকে। আর এবার প্লে অফে দুই লেগেই বোডো/গ্লিমটের কাছে হারের শিকার হলো ইন্টার।
ম্যাচ শেষে বোডো/গ্লিমটের উইঙ্গার হাউগে বলেন, ‘আমাদের জন্য এটা অবিশ্বাস্য। আমরা জানতাম যে ইন্টার খুব শক্তিশালী দল। তারা গত মৌসুমে ফাইনালও খেলেছে।’ আগামী শুক্রবার চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোর ড্র হবে। বোডো/গ্লিমটের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ স্পোর্টিং লিসবন কিংবা ম্যানচেস্টার সিটি।
বোডো/গ্লিমটের সাফল্যকে আরও বিশেষ করে তুলেছে একটি তথ্য। নরওয়ের লিগ মৌসুম শেষ হয়েছে গত নভেম্বরে, নতুন মৌসুম শুরু হবে আগামী মার্চের মাঝামাঝি। অর্থাৎ অফ-সিজনে খেলেও এমন কীর্তি গড়েছে কিয়েতিল নুটসেনের দল। ইন্টারের জন্য এই বিদায়টা বড় ধাক্কা। গত মৌসুমে ফাইনালে উঠেও পিএসজির কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল তারা।

জয়ের পর বোডো/গ্লিমট কোচ নুটসেন বলেন, ‘ক্লাব, খেলোয়াড়্ এই শহর এবং নরওয়ের জন্য এটা দারুণ এক সন্ধ্যা। আমরা লক্ষ্য নিয়ে ভাবছি না; বরং কীভাবে ভালো পারফর্ম করা যায় এবং খেলোয়াড় ও দলকে উন্নত করার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়—সেটা নিয়ে ভাবছি। আমার মনে হয়, এখন এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নিজেদের একটি পদ্ধতি আছে, আর সেটা অনুসরণ করাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

রাতের অন্য ম্যাচে আজারবাইজানে কারাবাখকে ফিরতি লেগে ৩–২ গোলে হারিয়েছে নিউক্যাসল ইউনাইটেড। এর আগে প্রথম লেগে কারাবাখকে ৬-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো প্রায় নিশ্চিত করে রেখেছিল ইংলিশ ক্লাবটি। নিউক্যাসল শেষ ষোলোয় উত্তীর্ণ হওয়ায় এখন সেখানে ইংল্যান্ডের ক্লাব হলো ছয়টি। পরের পর্বে নিউক্যাসলের প্রতিপক্ষ চেলসি বা বার্সেলোনা।

আতলেতিকো মাদ্রিদ প্রথম লেগে ক্লাব ব্রুগার মাঠে ৩-৩ গোলে ড্র করেছিল। মাদ্রিদে ফিরতি লেগ ৪-১ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৪ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ডিয়েগো সিমিওনের দল। ফিরতি লেগে আতলেতিকোর নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আলেক্সান্দার সরলথ হ্যাটট্রিক করেন। সিমিওনের দল শেষ ষোলোয় খেলবে টটেনহাম হটস্পার কিংবা লিভারপুলের বিপক্ষে।

লেভারকুসেন প্রথম লেগে গ্রিসে অলিম্পিয়াকোসকে ২-০ গোলে হারানোর পর ঘরের মাঠে ফিরতি লেগ গোলশূন্য ড্র করে। ২০২৪ সালের জার্মান চ্যাম্পিয়নরা শেষ ষোলোয় আর্সেনাল কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *