১ মার্চ ২০২৬, রবি

মার্কিন জ্বালানি অবরোধের মধ্যে কিউবা দখলের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কিউবার বিরুদ্ধে চলমান কঠোর জ্বালানি অবরোধের মধ্যেই এবার দেশটিকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণভাবে’ দখল করে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসের লনে টেক্সাস যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্টশিয়াল হেলিকপ্টার ‘মেরিন ওয়ান’-এ ওঠার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে এই ইঙ্গিত দেন। মূলত এসময় সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ইরান ও কিউবার মতো দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন। এই দুই দেশেই ট্রাম্প নতুন সরকার দেখতে চান বলে এর আগে জানিয়েছিলেন।

কিউবার ক্ষেত্রে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “কিউবা সরকার আমাদের সাথে কথা বলছে এবং আপনারা জানেন যে, তারা অনেক বড় বিপদে আছে। তাদের কাছে কোনও অর্থ নেই। এই মুহূর্তে তাদের কিছুই নেই, তবে তারা আমাদের সাথে কথা বলছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “হয়তো আমরা কিউবার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দখল দেখতে পাব। শেষ পর্যন্ত আমরা খুব ভালোভাবেই কিউবাকে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে দখল করে নিতে পারি।”

গত দুই মাস ধরে ট্রাম্প অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে এই কমিউনিস্ট শাসিত ক্যারিবীয় দ্বীপটিতে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবারের বক্তব্যে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, কিউবা একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ যা পতনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

ট্রাম্প বলেন, “আমি যখন ছোট ছিলাম তখন থেকেই কিউবার কথা শুনছি। সবাই সেখানে পরিবর্তন চেয়েছিল এবং আমি এখন তা ঘটতে দেখছি।”

তিনি জানান, কিউবান-আমেরিকান বংশোদ্ভূত কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার (৯০ মাইল) দূরে অবস্থিত কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরেই বৈরী। ১৯৬০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপটির ওপর পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে, যা এর অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে।

তবে গত ৩ জানুয়ারি থেকে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে, যখন ট্রাম্প কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ ও বন্দি করার জন্য একটি সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন। সেই অভিযানে ভেনিজুয়েলার সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি আনুমানিক ৩২ জন কিউবান সৈন্য নিহত হয়।

এর পরপরই ট্রাম্প কিউবার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন এবং প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিতে শুরু করেন যে, সেখানকার সরকার ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে আছে’। গত ১১ জানুয়ারি তিনি ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলা থেকে আর কোনও তেল বা অর্থ কিউবায় যাবে না। এরপর ২৯ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তিনি হুমকি দেন, যেসব দেশ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কিউবাকে তেল সরবরাহ করবে, তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে।

জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, কিউবার বিদ্যুৎ গ্রিড মূলত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এবং জ্বালানি সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হলে সেখানে একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের ইচ্ছাকে গোপন রাখেনি। ২০২৫ সালের অভিষেক ভাষণে ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘আবারও নিজেকে একটি বর্ধিষ্ণু জাতি হিসেবে বিবেচনা করবে’, যার মধ্যে ভূখণ্ড সম্প্রসারণও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *