১০ মার্চ ২০২৬, মঙ্গল

নেপালে অলিকে হারিয়ে বালেন্দ্র শাহর বাজিমাত

নেপালের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের ঢেউ তুলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে পরাজিত করেছেন র‍্যাপার ও রাজনীতিক বালেন্দ্র শাহ।

শনিবার (৭ মার্চ) নেপালের নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে ৩৫ বছর বয়সি এই তরুণ নেতা তার নির্বাচনী এলাকায় অলিকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছেন। বালেন্দ্র শাহ ৬৮,৩৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে কেপি শর্মা অলির পক্ষে পড়েছে মাত্র ১৮,৭৩৪টি ভোট।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারবিরোধী তীব্র ছাত্র আন্দোলনের পর এটিই ছিল নেপালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। সেই আন্দোলনে ৭৭ জনের প্রাণহানির পর তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, ব্যালট বাক্সে তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘বালেন’ নামে জনপ্রিয় এই র‍্যাপার নেপালের প্রভাবশালী তিন রাজনৈতিক দলের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন এক রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছেন।

বালেন্দ্র শাহের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বর্তমানে সাধারণ নির্বাচনে বড় জয়ের পথে রয়েছে। আংশিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সরাসরি নির্বাচিত আসনগুলোর অধিকাংশতেই দলটি এগিয়ে আছে, যা একটি বিশাল বিজয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নেপালের ইতিহাসে গত দুই দশক ধরে তিনটি প্রধান দল পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় থেকেছে, কিন্তু এবার প্রায় ৮ লাখ নতুন তরুণ ভোটার ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
রাজনীতিতে আসার আগে বালেন্দ্র শাহ নেপালি হিপ-হপ জগতের এক পরিচিত মুখ ছিলেন। তার গানগুলো বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি মূলত বেকারত্ব দূর করা এবং দেশের মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার দল আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নেপালের জিডিপি ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যখন কেপি শর্মা অলির সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে, তখন থেকেই রাজপথে সরব হন বালেন্দ্র শাহ। সেই আন্দোলনের সময় পুলিশের বলপ্রয়োগ এবং রাজনৈতিক পরিবারের সন্তানদের (নেপো বেবি) দাপটের বিরুদ্ধে তিনি সরাসরি অবস্থান নিয়েছিলেন। মিডিয়াকে এড়িয়ে চললেও প্রচারণার সময় তিনি নিজেকে ‘পুরো নেপালের প্রার্থী’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ঝানু রাজনীতিকদের সরিয়ে এই তরুণ র‍্যাপার নেপালের অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আনতে পারেন।

সূত্র: বিবিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *