ওজন নিয়ন্ত্রণের সূত্রটা খুব সহজ। কম ক্যালরি গ্রহণ আর বেশি ক্যালরি খরচ। আপনার যদি অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকে, এই সূত্র মেনেই আপনি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। তবে ব্যাপারটা বাস্তবে এতটা সহজ থাকে না। দিনের পর দিন এই সূত্রটা মেনে চলাই মুশকিল হয়ে পড়ে। তাই মানুষ খোঁজে ওজন কমানোর সহজ উপায়।
টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ও পুষ্টিবিদ অধ্যাপক শম্পা শারমিন খান বলছিলেন, ‘এমন কোনো খাদ্য উপকরণ নেই, সরাসরি যেটির প্রভাবে আমাদের ওজন কমতে পারে। ওজন কমাতে হলে ক্যালরির সূত্র মেনে চলার বিকল্প নেই। তবে এমন কিছু খাদ্য উপকরণ আছে, যা ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। দারুচিনি তেমনই এক উপকরণ। তবে জেনে নিতে হবে, এটি আপনার জন্য নিরাপদ কি না।’
দারুচিনির বৈশিষ্ট্য
দারুচিনি এমন এক খাদ্য উপকরণ, যা আমাদের বিপাক হার বাড়ায়। বুঝতেই পারছেন, এভাবে ক্যালরি পোড়ানোর কাজে সহায়তা করে দারুচিনি-পানি। দারুচিনি আমাদের রক্তের শর্করা হুট করে বেড়ে যেতে বাধা দেয়। রক্তের শর্করা স্থিতিশীল থাকলে হুটহাট ক্ষুধা লাগে না। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
দারুচিনিতে আরও আছে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান। অর্থাৎ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে দারুচিনি। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেও পরোক্ষভাবে ওজন কমে।
অনেক সময় পিপাসাকেও আমরা ক্ষুধা ভেবে ভুল করি। তাই সারা দিনে নানান রকম পানীয় গ্রহণের মাধ্যমে পানির চাহিদা পূরণ করে নিলে যখন-তখন অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স গ্রহণের প্রবণতা কমানোও সহজ হয়। দারুচিনি-পানি তাই পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
আরও কিছু সুবিধা
দারুচিনির সুঘ্রাণে আসে পরিতৃপ্তি। তাই দারুচিনি-পানি গ্রহণ করলে উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন খাবার বিশেষ করে মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা (ক্রেভিং) এড়ানোও অনেকটা সহজ হয়ে ওঠে।
তা ছাড়া দারুচিনি হজমসহায়কও বটে। আর হজম প্রক্রিয়া ঠিকঠাক থাকলে একটা নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সহজ হয়। ফলে আপনি একটি নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করতে পারেন, সহজে ওজন নিয়ন্ত্রণও করতে পারেন।
যখন খেতে পারেন
দারুচিনি–পানি পান করতে পারেন সকালে, খালি পেটে। কিংবা রাতের খাবারের পর। রাতে দারুচিনি-পানি পান করলে মিষ্টি খাবারের ক্রেভিং সামলানো সহজ হয়। তবে যেকোনো খাবার এবং পানীয় গ্রহণের মধ্যে অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময়ের ব্যবধান রাখতে ভুলবেন না।
তবে খেয়াল রাখুন
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন—এমন মায়ের দারুচিনি-পানি গ্রহণ করা উচিত নয়।
অ্যান্টিবায়োটিক-জাতীয় ওষুধ, হৃৎপিণ্ডের কিছু রোগে ব্যবহৃত ওষুধ এবং অন্যান্য কিছু ওষুধের সঙ্গে দারুচিনি-পানি গ্রহণ করলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে শরীরে। তাই কোনো ওষুধ চলমান অবস্থায় দারুচিনি-পানি গ্রহণ করতে চাইলে আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
যেকোনো সুস্থ ব্যক্তির জন্যই এ ধরনের পানীয় রোজকার খাদ্যতালিকায় যোগ করার আগে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

