৩১ মার্চ ২০২৬, মঙ্গল

বড়দেরও কি হাম হতে পারে? হলে করনীয়

হাম বললেই আমাদের মনে হয় শিশুদের রোগ। কিন্তু আদতে শুধু শিশুদের নয়, বড়দেরও হয় হাম। বড়দের ক্ষেত্রে সংক্রমণ ও জটিলতা ছোটদের চেয়ে বেশি হয়। বিশেষ করে যাঁরা ছোটবেলায় টিকা পূর্ণ করেননি বা যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে বড় বয়সের হাম শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে।
বড়দের হাম কেন ভয়ের কারণ
শিশুদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের হামে আক্রান্ত হওয়ার পর নিউমোনিয়া, লিভারের প্রদাহ (হেপাটাইটিস) এবং মস্তিষ্কের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে হাম–পরবর্তী মৃত্যুঝুঁকি বা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যার হার তুলনামূলক বেশি।
লক্ষণগুলো চিনে রাখুন
হামের ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। সাধারণত নিচের পর্যায়গুলোতে লক্ষণ দেখা দেয়—

প্রাথমিক ধাপ: প্রচণ্ড জ্বর, ক্লান্তি, শুকনো কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া।

কপলিক স্পটস: মাড়ির উল্টো দিকে গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদাটে বা ধূসর দাগ দেখা দেওয়া, যা হামের একটি অন্যতম প্রধান লক্ষণ।

র‍্যাশ বা লালচে দানা: জ্বরের ৩-৪ দিন পর মুখে ও কানের পেছনে লালচে দানা দেখা দেয়, যা দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

সংক্রমণের কারণ ও ঝুঁকি
ছোটবেলায় এমএমআর টিকা না নেওয়া বা অপূর্ণ রাখা।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম বা পুষ্টিহীনতার কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া।

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা। হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি,

কাশি বা কথা বলার সময় বাতাসের মাধ্যমে এটি ছড়ায়।

জটিলতা
বড়দের ক্ষেত্রে হামের কারণে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনাইটিস হতে পারে, যার জন্য যান্ত্রিক ভেন্টিলেশন বা লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া শ্রবণশক্তি হারানো, অন্ধত্ব এবং ‘এসএসপিই’ নামক মস্তিষ্কের এক ভয়াবহ রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা কয়েক বছর পর প্রকাশ পেতে পারে।

প্রতিকার ও প্রতিরোধে করণীয়
টিকাদান: যাঁরা আগে টিকা নেননি, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এমএমআর টিকা গ্রহণ করুন। এটিই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ভিটামিন এ গ্রহণ: হামের তীব্রতা কমাতে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন এ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।

আলাদা রাখা: সংক্রমণ ছড়ানো রোধে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ৫-৭ দিন আলাদা ঘরে রাখা জরুরি।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার।

বিশ্রাম: এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং তরলজাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে, বিশেষ করে ভিটামিন সি–জাতীয় খাবার।
সতর্কবার্তা
জ্বরের সঙ্গে শরীরে দানা দেখা দিলে বা চোখ লাল হয়ে গেলে অবহেলা করবেন না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে হাম গর্ভপাত বা সময়ের আগে সন্তান প্রসবের কারণ হতে পারে।

তাই লক্ষণ দেখামাত্র কাছের হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে আপনাকে রক্ষা করতে।

By Fhrakib

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *