৮ এপ্রি ২০২৬, বুধ

গরম পড়তেই ঘামাচির সমস্যা,জেনে নিন সমাধান

সাধারণত গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া সবসময় আর্দ্রতা থাকে, আর বাইরের পরিবেশও থাকে উত্তপ্ত। আর প্রখর রোদ ত্বকে নতুন রোগ সৃষ্টি করার পাশাপাশি বিদ্যমান রোগগুলোকেও অনেকগুণ বাড়িয়ে তোলে, যা আমাদের ত্বককে প্রভাবিত করে। সে কারণে ত্বকে অবস্থিত ঘামগ্রন্থিগুলোর নিঃসরণ বেড়ে যায়। আর অতিরিক্ত গরম ও ঘামের কারণে ত্বকে চুলকানিসহ ছত্রাক এবং অন্যান্য জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে থাকে। সে জন্য গরম পড়তেই ত্বকে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। আর এর অন্যতম কারণই হচ্ছে— ঘামাচি, র্যাশ আর চুলকানি।
অতিরিক্ত গরমে শরীরে ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়াজনিত কারণে ঘামাচি হয়। কোনো কারণে সেই অংশটি জামা-কাপড়ে ঘষা খেলে বা চুলকানি হলে অস্বস্তি বেড়ে যায়। আর এটি শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক— সবাই এই ঘামাচির সমস্যায় ভুগে থাকেন।

আর গরমকালে ঘামাচি বা ‘প্রিকলি হিট’ একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা, যা মূলত অতিরিক্ত ঘাম ও ত্বকের রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ঘটে থাকে। যখন ঘাম শরীরের বাইরে বের হতে পারে না, তখন তা ত্বকের নিচে জমা হয়ে লালচে ফুসকুড়ি ও চুলকানির সৃষ্টি করে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘামের সমস্যা দূর করতে ঘরোয়া কিছু সমাধান অনুসরণ করি—

১. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। সারা দিন কোথাও বের না হলেও ত্বক পরিষ্কার করতে ভুলবেন না।

২. একটা শুকনো কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ বেঁধে নিন। এরপর ১০-১৫ মিনিট ধরে ঘামাচির ওপর লাগান। বরফ নতুন করে ঘাম বসতে দেবে না। দিনে অন্তত ৩-৪ বার এভাবে বরফ ব্যবহার করলে উপকৃত হবেন। আর গরমে হালকা রঙের সুতির পোশাক পরুন। এটা ত্বকের সঙ্গে কাপড়ের ঘর্ষণ কম হবে। এর ফলে ত্বক সুস্থ থাকবে।
৩. এ ছাড়া ঘামাচি হলে যতটা সম্ভব কম চুলকানোর চেষ্টা করুন। অ্যালোভেরার রস, নিমপাতার রস, পাতিলেবুর রস পানিতে মিশিয়ে পাতলা করে নিয়ে লাগাতে পারেন। এতে ঘামাচির চুলকানি বন্ধ হবে।

৪. ঘামাচিতে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এতে রোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

৫. ঘামাচি হলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। আর এক কাপ ঠান্ডা পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। বেকিং সোডাও ঘামাচির জায়গায় ঘাম বসতে দেয় না। পরিষ্কার কাপড় বেকিং সোডা গোলা পানি ডুবিয়ে ঘামাচির ওপর ১০-১৫ মিনিট পর্যন্ত আলতো হাতে মুছতে থাকুন। এতে ঘামাচি অনেক কমে যাবে।

৬. অ্যালোভেরা জেল ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী। ঘামাচি তাড়াতে অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার। ঘামাচির ওপর শুধু অ্যালোভেরার রস লাগালেই উপকার পাবেন। চাইলে হলুদের সঙ্গে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। হলুদ অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে। তাই এ মিশ্রণ ত্বকের জন্য উপকারী।

৭. নিমপাতা অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে থাকে। আর নিমপাতার রসের সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে ঘামাচির ওপর দিলে ভীষণ উপকার পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *