৭ এপ্রি ২০২৬, মঙ্গল

তীব্র গরমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

দেখতে দেখতে গরম চলে এসেছে। বাংলাদেশে গরম মানেই তীব্র তাপদাহ, ঘাম আর অস্বস্তি। তাপমাত্রা যখন ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়, তখন শরীর ঠান্ডা রাখা শুধু স্বস্তির জন্য নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও জরুরি হয়ে পড়ে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই এই গরমেও থাকা যায় আরামদায়ক ও সুস্থ।

পানির বিকল্প নেই

গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। এর পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ওরস্যালাইন শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়ক। অতিরিক্ত চা ও কফি এড়িয়ে চলা ভালো।

হালকা ও সতেজ খাবার

গরমে ভারী ও তেল-ঝাল খাবার শরীরকে আরও ক্লান্ত করে তোলে। তাই খাদ্যতালিকায় রাখুন শসা, তরমুজ, বাঙ্গি, পেঁপের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল। টক দই বা লাচ্ছিও শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

স্বস্তিদায়ক পোশাক বেছে নিন

ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের সুতির কাপড় গরমে সবচেয়ে আরামদায়ক। এতে ঘাম কম জমে এবং শরীর ঠান্ডা থাকে। গাঢ় রঙের পোশাক এড়িয়ে চলাই ভালো।

ঘরের পরিবেশ রাখুন শীতল

দিনের বেলায় জানালার পর্দা টেনে রাখলে ঘরে সরাসরি রোদ ঢোকে না। ফ্যানের সামনে বরফ বা ঠান্ডা পানি রাখলেও কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ার কুলার বা এসি ব্যবহার করা যেতে পারে।

গোসল ও পরিচ্ছন্নতা জরুরি

প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে ২–৩ বার গোসল করলে শরীর ঠান্ডা থাকে। ঘাম জমে থাকলে ত্বকের সমস্যা হতে পারে, তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি।

জীবনযাপনে সতর্কতা

দুপুর ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে রোদ সবচেয়ে বেশি থাকে। এ সময় বাইরে কম বের হওয়া ভালো। বাইরে গেলে ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সুস্থ রাখতেও সহায়ক।

হিটস্ট্রোক থেকে সাবধান

অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব—এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *