১৬ এপ্রি ২০২৬, বৃহঃ

সাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা শুরু

বঙ্গোপসাগরে মাছের নিরাপদ প্রজনন ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ১৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারবেন না।

এর আগে গত ১ মার্চ থেকে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতেও মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

প্রতি বছরের মতো এবারও মাছের প্রজনন ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে সরকার এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে এতে ভোলা জেলার প্রায় দুই লাখ জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোলায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন জেলের জন্য ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে বড় একটি অংশ সরকারি সহায়তার বাইরে রয়ে গেছে।

ইলিশা মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার মিয়া বলেন, নদী ও সাগরে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। এতে অধিকাংশ জেলে ঋণের মধ্যে আছেন। এখন আবার দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি সব জেলেকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানান।

নাছির মাঝি মাছঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী আহসান কবির লিটন বলেন, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শুধু জেলেদের কথা ভাবা হচ্ছে। অথচ এ খাতের সঙ্গে হাজারো ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষ জড়িত, যাদের কথা উপেক্ষিত থাকছে। তিনি জেলার সব জেলেকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পাশাপাশি মৎস্য ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এই সময়ের জন্য ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখলে জেলেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

স্থানীয়দের মতে, কার্যকর সহায়তা ছাড়া দীর্ঘ সময়ের এ নিষেধাজ্ঞা জেলেদের জীবনে বাড়তি দুর্ভোগ ডেকে আনছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *