২৮ এপ্রি ২০২৬, মঙ্গল

হৃদরোগের যেসব লক্ষণ কখনই উপেক্ষা করা উচিত নয়

হৃদরোগের অনেক আগেই রক্তনালির ভেতরের আস্তরণ বা ‘এন্ডোথেলিয়াম’ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’ দেখা দেয়। উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, উচ্চ কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের কারণে রক্তনালিতে নাইট্রিক অক্সাইড কমে যায়। ফলে রক্তনালীগুলো শক্ত ও সরু হয়ে পড়ে, প্রদাহ বাড়ে এবং রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, যা মূলত হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক সতর্কবার্তা।
আপনার হার্টের রোগ বলেকয়ে আসে না। তবে গবেষণা বলছে— হৃদরোগ হানা দেওয়ার আগে এক বিশেষ অবস্থা তৈরি হয়, যেটি জানান দেয় যে, হার্টের অবস্থা বিকল হতে চলেছে। ধমনিতে চর্বি জমার অনুকূল পরিবেশও তৈরি হয়েছে। সে অবস্থাটিকে বলা হয় ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’।

‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’ কোনো রোগ নয়। বরং হৃদরোগ হওয়ার আগের এমন একপর্যায়, যা ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের পূর্বাভাস দিতে পারে। এ অবস্থাটি নিয়ে সচেতনতা তেমন নেই। অথচ সাম্প্রতিক নানা গবেষণায় হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ বুঝতে ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’-এর ওপরেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশি। দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ, হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন।

শরীরের ভেতরে যে রক্তনালি রয়েছে, সেগুলোর ভেতরে অত্যন্ত সংবেদনশীল এক আস্তরণ থাকে। একে বলা হয় এন্ডোথেলিয়াম। এর কাজ হলো রক্তনালিকে সুরক্ষা দেওয়া, তার সঙ্কোচন-প্রসারণে সাহায্য করা এবং রক্ত চলাচলের পথ সুগম করা। কোনো কারণে এই আস্তরণটি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখনই রক্তনালিগুলোর সুরক্ষাবলয় ভেঙে যায়। এ অবস্থাকেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয়ে থাকে ‘এন্ডোথেলিয়াল ডিসফাংশন’। এটিই ধমনিতে চর্বি বা প্লাক জমা বা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের মূল কারণ।

গবেষকরা আরও জানাচ্ছেন, এন্ডোথেলিয়াম স্তরটি নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে, যা রক্তনালিকে নমনীয় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে নাইট্রিক অ্যাসিডের উৎপাদন কমে যায়। রক্তনালি তার নমনীয়তা হারায়। ভেতর থেকে শক্ত হতে শুরু করে। অত্যধিক প্রদাহ শুরু হয়। রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে থাকে। ফলে এন্ডোথেলিয়াম স্তরের নিচে চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য পদার্থ জমতে থাকে। একে বলে প্লাক। এর কারণেই ধমনির পথ সংকীর্ণ হয়ে ব্লকেজ তৈরি হয়, যা থেকে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়ে।

আর রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকলে তা এন্ডোথেলিয়াম ডিসফাংশনের কারণ হয়ে উঠতে পারে। আবার ডায়াবেটিসের রোগী, যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি, তাদের এন্ডোথেলিয়াম স্তরটি দ্রত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে ধূমপান বেশি করলে নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিক শরীরে ঢুকে খুব তাড়াতাড়ি এন্ডোথেলিয়াম স্তরটিতে ক্ষত তৈরি করে। ফলে রক্তনালি সঙ্কুচিত হতে থাকে। সে কারণেই বলা হয়, অত্যধিক ধূমপান করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *