12 Jul 2026, Sun

শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন তুরস্কে

তুরস্ক প্রথমবারের মতো তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘ইয়িলদিরিমহান’ প্রদর্শন করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির গায়ে একদিকে রয়েছে অটোমান সুলতান প্রথম বায়েজিদের মনোগ্রাম, অন্যদিকে খোদাই করা হয়েছে আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতীক।
ইস্তানবুলে ৫ মে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক সাহা এক্সপোর প্রথম দিনেই এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রদর্শনের জন্য আনা হয়। প্রদর্শনীটি চলবে ৯ মে পর্যন্ত।

তুর্কি ভাষায় ‘ইয়িলদিরিম’ শব্দের অর্থ ‘বজ্র’ এবং ‘ইয়িলদিরিমহান’-এর অর্থ ‘বজ্রের শাসক’।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসির গুলের জানিয়েছেন, এটি দেশটির প্রথম তরল জ্বালানি-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যাতে হাইপারসনিক প্রযুক্তির বৈশিষ্ট রয়েছে। তার দাবি, এটিই তুরস্কের তৈরি সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।

প্রদর্শনীতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়িলদিরিমহানের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার। এতে চারটি রকেট ইঞ্জিন রয়েছে এবং এটি শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ২৫ গুণ বেশি গতিতে চলতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড জ্বালানি ব্যবহার করা হবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতির কারণে তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

গত বছরের জুলাইয়ে ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষা শিল্প মেলায় তুরস্ক ‘টাইফুন ব্লক-৪’ নামে ১০ মিটার দীর্ঘ ও সাত হাজার ২০০ কেজি ওজনের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করে। এটিকে দেশটির সবচেয়ে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রকেটসানের তথ্যমতে, টাইফুন সিরিজের অন্যান্য সংস্করণের ন্যূনতম পাল্লা ২৮০ কিলোমিটার। তবে ধারণা করা হচ্ছে, টাইফুন ব্লক-৪ এক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম।

এ ছাড়া রকেটসানের তৈরি ‘জাংক’ নামের আরেকটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য পাল্লা দুই হাজার কিলোমিটার বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চুক্তি অনুযায়ী দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তুরস্কও এসব চুক্তির কয়েকটিতে স্বাক্ষরকারী দেশ। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক সীমাবদ্ধতা এড়াতে অনেক সময় ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত পাল্লা প্রকাশ করা হয় না।

আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম এমন ধরনের অস্ত্র, যা অত্যন্ত দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। অনেক ক্ষেত্রে একটি ক্ষেপণাস্ত্রেই একাধিক ওয়ারহেড বহন করা যায়, যা ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে।
বর্তমানে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ কয়েকটি দেশ এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মালিক। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, উত্তর কোরিয়া, ইসরাইল ও ইরানের কাছেও সীমিত সংখ্যায় আইসিবিএম রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের মূল পার্থক্য হলো এর পাল্লা ও গতি। সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সাধারণত ৩০০ থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, যেখানে আইসিবিএমের পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *