আজ কুরবানির ঈদ। ঘরে ঘরে চলছে গরু-খাসির মাংস রান্না, খাওয়া আর অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন। ঈদের আনন্দে মাংস খাওয়া যেন আলাদা এক উৎসবে পরিণত হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত লাল মাংস বা রেড মিট খেলে দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
গরু, খাসি ও ভেড়ার মাংস লাল মাংসের মধ্যে পড়ে। পরিমিত পরিমাণে খেলে এগুলো ক্ষতিকর নয়, তবে অতিরিক্ত খাওয়া শুরু হলেই নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাল মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত ফ্যাট রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) বাড়িয়ে দেয়। এই কোলেস্টেরল রক্তনালিতে জমে প্লাক তৈরি করে, যা রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
এছাড়া অতিরিক্ত লবণ বা প্রসেসড মাংস খেলে শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে শরীরে পানি জমে রক্তচাপ বাড়তে পারে এবং হৃদযন্ত্রকে বেশি চাপ নিতে হয়। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি থাকলে হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
লাল মাংস হজমের সময় শরীরে টিএমএও নামে একটি যৌগ তৈরি হয়, যা ধমনিকে শক্ত করে ফেলতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি কোলেস্টেরল জমা বাড়িয়ে রক্তনালিতে ব্লক তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি রক্তনালির ভেতরের ক্ষতিও বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়ার প্রভাব শুধু হৃদযন্ত্রে সীমাবদ্ধ নয়, এতে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। কিছু গবেষণায় পেট ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরলের সমস্যাও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে ১ থেকে ৩ বার অল্প পরিমাণে লাল মাংস খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ। একবারে প্রায় ৩ আউন্স পরিমাণ মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঈদের সময় মাংস পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত অংশ কম খাওয়াই ভালো।
সূত্র: রিয়েল সিম্পল

