২৫ জুন ২০২৬, বৃহঃ

ঐতিহ্যের বাঁশ-বেত শিল্পে টিকে থাকার সংগ্রাম

কেউ কাটছেন বাঁশ, কেউ চিরে তৈরি করছেন সরু লম্বা ফালি। আবার কেউ ফালি নিয়ে বসেছেন হরেক রকমের কুটির শিল্প বুননের কাজে। পরিবারের নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ থেকে শিশু-কিশোর সবার ব্যস্ততাই যেন এক সুতোয় গাঁথা। এমনই কর্মচঞ্চল দৃশ্য চোখে পড়ে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে।

বংশপরম্পরায় বাঁশ শিল্পকে আঁকড়ে ধরে টিকে আছে গ্রামের অধিকাংশ পরিবার। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁশের তৈরি কুলা, ডালা, চাটাই, চালনি, টুকরি, চাঙ্গা, হাঁস-মুরগির খাঁচা, মাছ ধরা ও সংরক্ষণের বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।

রাজাপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ব্যস্ততা বাঁশের তৈরি কুটির শিল্পের কাজে। গৃহিণীরা কাজ করছেন ঘরের মেঝে-বারান্দায়। পুরুষ কারিগররা দলবেঁধে খোশগল্পে কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন উঠোনের কোণে। বৃদ্ধরাও ব্যস্ত অভিজ্ঞ হাতে ফালি তৈরির কাজে। বসে নেই শিশুরাও। স্কুলের পাঠ শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তারাও যুক্ত করছে কচি হাত। রাত-দিন বছরজুড়ে চলে এ কুটির শিল্পের কাজ। প্রতি সপ্তাহে এসব পণ্য বাড়ি থেকেই কিনে নেন পাইকাররা। কেউ কেউ আবার নিজেই বিক্রি করেন স্থানীয় হাটে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয় এগুলো।

নারী কারিগর সাধই বিবি বলেন, আমরা বছরব্যাপী এই কাজ করেই খাই। কিন্তু সরকার থেকে প্রশিক্ষণ কিংবা সহায়তা কোনটিই পাই না।

গ্রামের প্রবীণ কারিগর মনুফর আরী বলেন, এটা আমাদের পূর্বপুরুষের পেশা। আমি আমার মা-বাবার থেকে এ কাজ শিখেছি। গ্রামের সবাই এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাঁশের বেত দিয়ে নিত্য ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য তৈরি-বিক্রি করেই আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। তবে বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্যের অধিক ব্যবহারসহ নানা কারণে এ শিল্প আর আগের মতো লাভজনক নেই।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া বলেন, রাজাপুর গ্রামের মূল আয়ের উৎস হচ্ছে কুটির শিল্প। ঐতিহ্যের এ শিল্পটি এখনো তারা ধরে রেখেছেন। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে তাদের প্রশিক্ষণ, ঋণসহায়তাসহ সম্মিলিতভাবে আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।

এ বিষয়ে কথা হলে বিশ্বনাথের নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ বিন কাশেম  বলেন, গ্রামটির বিষয়ে মাত্র অবগত হলাম। পরিদর্শন করে দেখব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *