4 Jul 2026, Sat

ওজন নিয়ন্ত্রণের সহজ নিয়ম জানুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন নতুন ডায়েট, ডিটক্স পানীয়, ফ্যাট বার্নিং চা বা দ্রুত ওজন কমানোর নানা কৌশল ভাইরাল হচ্ছে। কখনো কোনো খাবারকে ‘সুপারফুড’ হিসেবে প্রচার করা হয়, আবার কিছুদিন পরই সেটি হারিয়ে যায় নতুন ট্রেন্ডের ভিড়ে। এসব তথ্যের ভিড়ে অনেকেই বুঝতে পারেন না, ওজন কমানোর জন্য আসলে কোন পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে ভারতের পুষ্টিবিদ বলেন, ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো শর্টকাট নেই। বরং ধৈর্য, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা যায়—এমন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সবচেয়ে ভালো ফল দেয়। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তিনি এ বিষয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ শেয়ার করেছেন।

ধীরে ধীরে ওজন কমানোর লক্ষ্য রাখুন

অল্প বা বেশি—যতটুকুই ওজন কমানোর প্রয়োজন হোক না কেন, তাড়াহুড়া না করে ধাপে ধাপে এগোনো উচিত। পুষ্টিবিদ বছরে শরীরের মোট ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেন।

তার ভাষ্য, দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করলে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিপরীতে ধীরে ওজন কমালে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের সমস্যা, অস্টিওপোরোসিসসহ কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমতে পারে। পাশাপাশি পেশি, হাড়, ত্বক, চুল এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও ভালো থাকে।

পরিচিত খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই

ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই হঠাৎ করে খাদ্যতালিকা থেকে পরিচিত খাবার বাদ দিয়ে নতুন বা বিদেশি খাবারের ওপর নির্ভর করেন। তবে পুষ্টিবিদের মতে, সুস্থ থাকতে ব্যয়বহুল বা অচেনা খাবারের প্রয়োজন নেই।

ডাল-ভাত, মাছ-ভাত, মুরগি-ভাত, ইডলি, দোসা কিংবা অন্যান্য ঘরোয়া খাবারই পরিমিত পরিমাণে এবং সুষমভাবে খেলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সম্ভব। তাই ওজন কমানোর জন্য প্রিয় ও পুষ্টিকর খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ট্রেন্ড দেখে নয়, বৈজ্ঞানিক পরামর্শে ডায়েট করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই ডিটক্স ওয়াটার, বিশেষ চা, বীজ বা বিভিন্ন সাপ্লিমেন্টকে দ্রুত ওজন কমানোর উপায় হিসেবে তুলে ধরা হয়। পুষ্টিবিদের মতে, এসব দাবির বেশিরভাগের পেছনে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

ওজন কমানোর প্রকৃত উপায় কোনো নির্দিষ্ট খাবার বা পানীয় নয়। বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, সচেতনভাবে খাদ্য নির্বাচন, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা যায়—এমন জীবনযাপনই সবচেয়ে কার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ওজন কমানোর পরিকল্পনা করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। এতে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নিরাপদ ও কার্যকর খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা সহজ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *