১৫ মে ২০২৬, শুক্র

চীন সফরে গিয়ে ইরানের ‘ইউরেনিয়াম’ নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

ইসরাইলের দাবির মুখে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করার অভিযানকে মূলত রাজনৈতিক প্রচার বা ‘পাবলিক রিলেশনস’ কৌশল হিসেবে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে রাজনৈতিক প্রচারের অংশ বললেও যেকোনো উপায়ে এই ইউরেনিয়াম নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। গত বছরের জুনে ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু স্থাপনায় বোমাবর্ষণের নির্দেশ দেওয়ার পর এবার এই নতুন মন্তব্য করলেন ট্রাম্প। খবর এনডিটিভির।
সম্প্রতি চীন সফরকালে ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আসলে ইউরেনিয়ামটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে এলে আমার ভালোই লাগত। তবে আমার মনে হয়, বাস্তবতার চেয়ে এটি রাজনৈতিক প্রচারেরই অংশ বেশি। আমরা আরেকটি কাজ করতে পারি, তা হলো সেখানে (ইরানে) আবারও বোমা ফেলা। তবে এটি আমাদের হাতে আসলেই আমি বেশি স্বস্তি পাব এবং আমরা তা পাবই।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলার নির্দেশ দেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ এখনো ‘শেষ হয়নি’, কারণ ইরানের স্পর্শকাতর পরমাণু উপাদানগুলো দেশটির বাইরে নিয়ে আসতে হবে।
এর আগে, ২০১৫ সালে বারাক ওবামার আমলে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেওয়ার পর ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে—যা প্রায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

গত বছরের জুনে ইসরাইলি বিমান হামলার পরপরই ট্রাম্প ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন বোমাবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ওই স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে নিজের সেই দাবিকে একপাশে সরিয়ে রেখে চলতি বছরে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু বোমা তৈরির কাছাকাছি পৌঁছানোর অভিযোগ এনে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করেছেন। যদিও জাতিসংঘের পরমাণু পরিদর্শকেরা ট্রাম্পের এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান তাদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ঠিক কোথায় লুকিয়ে রেখেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো মাটির গভীর ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে রাখা হয়েছে। ফলে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ছাড়া এই ইউরেনিয়াম জব্দ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত দুরূহ ও ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *