10 Jul 2026, Fri

জন্মস্থান মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মাশহাদের পবিত্রতম ধর্মীয় স্থাপনা ইমাম রেজার মাজারে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এই দাফন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ইরাক ও ইরানজুড়ে এক সপ্তাহ ধরে চলা জানাজা, শোকযাত্রা এবং বিশাল শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।

বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহ একটি ট্রাকে করে মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে ইমাম রেজার মাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ট্রাকের দুই পাশে সাদা পাগড়ি পরা আলেমরা হাঁটছিলেন। কালো পোশাক পরা শোকাহত লাখ লাখ মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা, খামেনির ছবি এবং বিপ্লবী স্লোগান-সংবলিত লাল রঙের প্ল্যাকার্ড হাতে এই বিশাল শোকযাত্রায় অংশ নেন। খামেনির শোকযাত্রা শুরু হওয়ার অপেক্ষায় মাশহাদে জড়ো হওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মার্চের শুরুতে ধর্মীয় নেতাদের একটি পরিষদ তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করে। তবে এরপর থেকে তাকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

তেহরানের সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাবাকে হত্যা করা ওই যৌথ হামলায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ওই হামলায় তার মুখমণ্ডল বিকৃত হওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। বর্তমানে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও জনসমক্ষে আসার মতো শারীরিক অবস্থায় নেই। এছাড়া নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তার উপস্থিতি সীমিত রাখছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তার কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি, তিনি কেবল লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন।

খামেনির মৃত্যুর পর চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গত মাসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। টানা হামলার ৪০ দিনের মাথায় উভয় দেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং গত মাসে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়। স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা চললেও সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে এক ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তরুণ বয়সে তিনি কোম ও মাশহাদে ইসলামি শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি দ্রুত রাষ্ট্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় ৩৭ বছর ধরে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *