উইম্বলডনের শিরোপা ধরে রাখলেন ইতালির ইয়ানিক সিনার। রোববারের ফাইনালে তিনি হারালেন জার্মানির আলেক্সান্ডার জভেরেভকে। ফরাসি ওপেনের চ্যাম্পিয়ন জভেরেভের বিপক্ষে এই জয় অবশ্য সহজে আসেনি, বেশ কাঠখড় পুড়িয়ে এই জয় তুলে নিতে হয়েছে সিনারকে। ম্যাচের ফল ছিল ৬-৭ (৭/৯), ৭-৬ (৭/২), ৬-৩, ৬-৪
শুরুটা মোটেও মনমতো হয়নি বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় সিনারের। প্রথম সেটে হেরে যান তিনি। এই ম্যাচে দুই খেলোয়াড়ের সার্ভিসই ছিল বেশ শক্তিশালী। তবে সময় যত গড়িয়েছে জভেরেভকে ততোই ক্লান্ত করে তোলেন সিনার। শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তিনি।
এক বছর আগে এই কোর্টেই শিরোপা জিতেছিলেন সিনার। এবার সেই সাফল্য আবার ফিরিয়ে আনলেন তিনি। এটি তার পঞ্চম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা। চোটে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী কার্লোস আলকারাজের চেয়ে তিনি এখন মাত্র দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম পিছিয়ে আছেন। গ্র্যান্ড স্ল্যামে এটি ছিল সিনারের ১০০তম ম্যাচ জয়।
সেন্টার কোর্টে তিন ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ধরে চলে এই লড়াই। সিনার ৫৮টি উইনার মারেন। আর তার ভুল হয় মাত্র ২৫টি। জভেরেভ গ্র্যান্ড স্ল্যামে টানা ১৩ ম্যাচ জিতে ফাইনালে আসেন। কিন্তু সিনারের সামনে তিনি দাঁড়াতেই পারেননি।
গত মাসে ফরাসি ওপেনে সিনার দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিয়েছিলেন। হুয়ান মানুয়েল সেরুন্দোলোর কাছে দুই সেটে এগিয়ে থেকেও হেরে যান তিনি। কিন্তু উইম্বলডনে সেই দুঃখ ভুলিয়ে দিলেন তিনি।
এবারের উইম্বলডনে সিনারের সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ ছিল প্রথম রাউন্ডে। সেখানে মিওমির কেচমানোভিচের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও পাঁচ সেটে জেতেন তিনি। এরপর থেকে ঘাসের কোর্টে তাকে আর আটকানো যায়নি।
চব্বিশ বছর বয়সী সিনারের এখন এই বছরের রেকর্ড ৪৪ জয় আর মাত্র ৩ হার। এটি তার এই মৌসুমের ষষ্ঠ শিরোপা।
জভেরেভের জন্য উইম্বলডন কখনোই সহজ ছিল না। আগের নয়বার এসেও তিনি কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠতে পারেননি। তবে প্যারিসে প্রথমবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার পর লন্ডনে তিনি যেন নতুন রূপে ফিরে আসেন।
সিনারের বিপক্ষে সাতবারের দেখায় একটি সেটও জিততে পারেননি জভেরেভ। এবার যখন পারলেন, তখন নতুন আশা জেগে উঠেছিল যেন। তবে তাতে শেষমেশ লাভ হয়নি। সিনারের বিপক্ষে তার হারের সংখ্যা এখন টানা দশ। ১৯৯১ সালে মিশায়েল স্টিখের পর প্রথম জার্মান হিসেবে উইম্বলডন জেতার স্বপ্ন ছিল জভেরেভের। তা পূরণ হয়নি। তবে সোমবার থেকে এটিপি র্যাঙ্কিংয়ে আলকারাজকে টপকে দুই নম্বরে উঠবেন তিনি।

