ওজন কমানোর জন্য হাজার রকম পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে খুঁজলেও তা পাওয়া যায়। নানা রকম পদ্ধতি নিয়ে কথা হয়। কেউ বলেন ডায়েটের কথা, আবার কেউ বলেন শরীরচর্চার কথা। সামাজিক মাধ্যমের একজন নেটপ্রভাবী জানিয়েছেন কীভাবে মাত্র চার মাসে ১৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন।
অনেকে মনে করেন ওজন কমাতে হলে বুঝি ডায়েট থেকে সব পছন্দের খাবার বাদ দিয়ে দিতে হবে। অথবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কঠিন ওয়ার্কআউট করতে হবে। কিন্তু আসলে তা নয়। এতকিছু না করেও যে ওজন কমানো যায়, তা দেখিয়েছেন নেটপ্রভাবীদিশা মাগ্গু। মাত্র চার মাসে ১৫ কেজি ওজন কমিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। কীভাবে সম্ভব হলো সে কথাও জানিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে।
দিশা মাগ্গু তার পোস্টে লিখেছেন— ওজন কমানোর পথটা খুব কঠিন নয়। এর জন্য শৌখিন যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। নাম না জানা খাবারদাবারেরও প্রয়োজন নেই। বরং সহজ ও সাধারণ পথেই ওজন কমানো সম্ভব এবং তা ধরে রাখাও সম্ভব। আর পাঁচজন সাধারণ মানুষ যেভাবে জীবন কাটান, ঠিক সেভাবে থেকেই ওজন কমানো সম্ভব। এর জন্য কয়েকটি কাজ করা উচিত।
ওজন কমানোর জন্য প্রথম যে কাজটি করা উচিত, তা হচ্ছে— হাঁটা। আমাদের প্রত্যেকের হাঁটা কতটা জরুরি, তা অনেকেই জানে না। চর্বি ঝরাতে এর জুড়ি মেলা ভার। জিমে গিয়ে ভারি ব্যায়াম করার সময় না থাকলে প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন, ভালো উপকার পাবেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন কী করা উচিত—
পর্যাপ্ত পানি পান
সকালে ঘুম থেকে উঠে চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এই অভ্যাস বদলানো ভীষণ জরুরি। কারণ ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই পানি পান করুন। তা ভীষণ উপকারী। সামান্য গরম হলে আরও ভালো। কারণ তা হজমে ভালো কাজ করে। সারা দিন শক্তির জোগান দেবে। ভুলভালো খাওয়ার ইচ্ছাও থাকবে না।
বাড়ির খাবার
বাড়ির খাবারের কোনো বিকল্প নেই। নিজে রান্না করে খেলে খাবারে কী ধরনের তেল, মসলা ব্যবহার করছেন তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর খাবারের পরিমাণও মেপে খাওয়া যায়। বাইরের কেনা খাবার বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে তা সম্ভব হয় না। তাই ওজন কমাতে হলে সবচেয়ে আগে বাইরের খাবার বন্ধ করতে হবে। এর বদলে ঘরে তৈরি হালকা খাবার খেতে হবে। এতেই আপনার শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি, সোডিয়াম ও চিনি ঢোকা বন্ধ হবে।
পরিমিত আহার করা উচিত
সারাদিনে শরীর যতটা ক্যালোরি পোড়ায়, তারচেয়ে সামান্য কম ক্যালোরি গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য খাবারের পরিমাণের দিকে নজর দিতে হবে। কম খান এবং পুষ্টিকর খাবার খান, তাতেই ঝরব মেদ।
আর ফলের রসের বদলে গোটা ফল চিবিয়ে খেলে উপকার বেশি পাবেন। আবার দোকান থেকে কেনা পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকের বদলে বাড়িতে ঘরোয়া উপকরণে তা বানিয়ে খেলে লাভ বেশি। আপনার শরীর সুস্থও থাকবে এবং দ্রুত ওজনও কমবে।
ফাইবার খেতে ভুলবেন না
ওজন কমানোর ডায়েটে আজকাল প্রোটিনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বেশি। ফাইবারকে প্রায় ভুলতেই বসেছেন সবাই। অথচ ওজন কমাতে প্রোটিনের পাশাপাশি ফাইবারও ভীষণ জরুরি। প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন যেমনই খান না কেন, ফাইবারজাতীয় খাবার যেমন শাকসবজি, ফলমূল, ওটস-ডালিয়ার মতো দানাশস্য রাখতেই হবে। ফাইবার রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে এবং পেটের জন্যও ভালো।

