কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গরমজনিত নানা স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিচ্ছে। এরইমধ্যে অনেকেই অভিযোগ করছেন মাইগ্রেনের ব্যথা আগের তুলনায় বেশি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা শুধু অস্বস্তিই তৈরি করে না, এটি মস্তিষ্কের রক্তনালিতে পরিবর্তন এনে মাইগ্রেনের তীব্রতা বাড়াতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, গরমে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সক্রিয় হলে রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয়—যাকে বলা হয় ভাসোডাইলেশন। মাইগ্রেনে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
কানপুরের রিজেন্সি হেলথের প্রধান কনসালট্যান্ট ডা. রূপালী মেহরোত্রা জানান, গরমের সময় মাইগ্রেন রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তিনি বলেন, পানিশূন্যতা এ সমস্যার অন্যতম বড় কারণ। শরীরের পানির মাত্রা মাত্র ২ শতাংশ কমে গেলেও মস্তিষ্কের টিস্যু সংকুচিত হতে পারে, যা ব্যথা অনুভবের রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে।
এছাড়া দুপুর ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তীব্র সূর্যালোক মাইগ্রেন বাড়াতে পারে। কারণ, এই আলো মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে। গরমের কারণে ঘুমের ব্যাঘাতও সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
মাইগ্রেন ও পানিশূন্যতার কারণে হওয়া সাধারণ মাথাব্যথার মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে। মাইগ্রেন সাধারণত মাথার এক পাশে তীব্র, ধকধকে ব্যথা হিসেবে দেখা দেয়, যা নড়াচড়ায় বাড়ে এবং এর সঙ্গে বমিভাব বা আলো সহ্য না করার সমস্যা থাকে। অন্যদিকে পানিশূন্যতার মাথাব্যথা সাধারণত পুরো মাথায় হালকা ব্যথা তৈরি করে এবং পানি পান করলে উপশম হয়।
সমাধান হিসেবে চিকিৎসকরা বলছেন, মাইগ্রেন শুরু হলে রোগীকে ঠান্ডা ও অন্ধকার পরিবেশে বিশ্রাম নিতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি বা ইলেকট্রোলাইট গ্রহণ জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ট্রিপটানস বা ন্যাপ্রোক্সেন সোডিয়াম জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রতিরোধে প্রতিদিন ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান, দীর্ঘ সময় রোদে না থাকা, নিয়মিত খাবার গ্রহণ, পানিযুক্ত হালকা খাবার খাওয়া, ইউভি-প্রতিরোধী পোশাক ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে সেটি সাধারণ মাইগ্রেন নাও হতে পারে—এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

