২৮ মে ২০২৬, বৃহঃ

তুমুল বৃষ্টির মধ্যেই শোলা‌কিয়ায় ঈদের বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত

তুমুল বৃষ্টির মধ্যেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল মুসল্লির অংশগ্রহণে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। ভেজা কাদাময় মাঠেই ঐতিহ্যবাহী এ ঈদগাহ সাক্ষী হয় ১৯৯তম ঈদ জামাতের।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে টানা বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজে অংশ নেন, যা পুরো ঈদগাহ এলাকাকে এক অনন্য দৃশ্যে রূপ দেয়। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর পাঁচ মিনিট আগে তিনটি, দুই মিনিট আগে দুইটি এবং এক মিনিট আগে একটি শর্টগানের গুলি ফুটিয়ে নামাজের সংকেত দেওয়া হয়। সকাল ৯টায় শুরু হয় জামাত। এতে ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

ঈদের জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় খতিব ও শোলাকিয়া ঈদগাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত আলেম। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক নিপীড়নের শিকার মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মোনাজাতে বিশেষভাবে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ও সংকটে থাকা মুসলমানদের জন্য দোয়া করা হয়। পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। প্রবেশপথে তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিকভাবে শোলাকিয়া ঈদগাহ দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শতবর্ষী এই ঈদগাহে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে সমবেত হন, যা ঈদের দিনকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। এবারও বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধায় ভৈরব থেকে এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করে। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত শোলাকিয়া ঈদগাহ ১৭৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৮২৮ সালে এখানে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেখান থেকেই এর নাম শোলাকিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *