২১ মে ২০২৬, বৃহঃ

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত শিশু রামিসা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানাজা শেষে উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী গ্রামের মোল্লাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

এর আগে রাত ৮টার দিকে তার লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজন ও এলাকাবাসী এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। এতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহত রামিসা আক্তার সিরাজদিখানের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামের মরহুম হেলাল উদ্দিন মোল্লার ছেলে হান্নান মোল্লার মেয়ে। সে একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

জানাজায় রামিসার আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এ সময় শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। কবরস্থানের পাশে শিশুটির বাবা ও পরিবারের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এদিকে নির্মম এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে মুন্সিগঞ্জ শহরে মশাল জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অন্যদিকে রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সোহেল রানা বুধবার (২০ মে) দুপুরে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গত সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

আবেদনে আরও বলা হয়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে ডাকাডাকিতে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই ফ্ল্যাটে শিশুটির মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। তবে ঘটনার পর একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাতপরিচয় একজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় বলা হয়েছে, শিশুটিকে যখন সোহেল রানাদের ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়েছিল, সে সময় সেখানে তৃতীয় একজন ব্যক্তি ছিলেন। শিশুটির স্বজনসহ অন্যরা দরজা ভেঙে ওই ফ্ল্যাটে ঢোকার আগে তিনি সেখান থেকে চলে যান। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা আদালতে হাজির হয়ে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এই জঘন্য ও পাশবিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *