16 Jul 2026, Thu

বর্ষাতেও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি, সতর্ক থাকবেন যেভাবে

বর্ষাকালে আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল থাকায় অনেকেই মনে করেন এ সময় শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কম। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা ভুল। তৃষ্ণা কম পেলেও শরীর থেকে ঘাম, ডায়রিয়া, বমি বা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে বর্ষাতেও ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। তখন শরীর মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে। এতে প্রি-রেনাল অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি ঘন প্রস্রাবের কারণে কিডনিতে পাথর ও মূত্রনালির সংক্রমণের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

ডিহাইড্রেশনের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, গাঢ় হলুদ প্রস্রাব, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথাব্যথা এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া। শিশুদের ক্ষেত্রে চোখ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখে পানি না আসা ও অতিরিক্ত ঘুমভাবও সতর্ক সংকেত হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষ, বাইরে কাজ করেন এমন কর্মী, খেলোয়াড় এবং জ্বর, ডায়রিয়া বা বমিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

ডিহাইড্রেশন এড়াতে বর্ষাকালেও নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি ডাবের পানি, ঘোল বা অল্প লবণ মেশানো লেবুর পানি পান করলে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে।

প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকলে শরীরে পানির পরিমাণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। তাই বর্ষা বলে পানি পান কমিয়ে না দিয়ে নিয়মিত তরল গ্রহণের অভ্যাস বজায় রাখাই কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *