নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে রায়পুর-চাঁদপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) চরপাতা ইউনিয়নের গাছিরহাট এলাকায় গাছ ও বাঁশের গুঁড়ি দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন সহস্রাধিক বিক্ষুব্ধ গ্রাহক। এতে প্রায় এক ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ থেকে চরম যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরপাতা ইউনিয়নসহ রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২৪ ঘণ্টায় মাত্র চার থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। ঈদের দিনেও একই অবস্থা। টানা তিন দিনের লোডশেডিংয়ে অনেকের ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।
অবরোধ চলাকালে চাঁদপুরগামী স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া আটকা পড়েন। পরে তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। রাতে ইউএনওর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘এই উপজেলায় লোডশেডিং সবচেয়ে বেশি। ঈদের দিনেও বিদ্যুৎ নেই — পরিস্থিতি অসহনীয়।’
সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের উপ-মহাব্যবস্থাপককে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান দিতে সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
রায়পুর পল্লী বিদ্যুতের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবারের কালবৈশাখী ঝড়ে ৩৩ কেভিসহ সব লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খুঁটি ভেঙেছে, তার ছিঁড়েছে, ট্রান্সফর্মার নষ্ট হয়েছে, লাইনের ওপর গাছ পড়েছে। রাত ৮টার পর পৌরসভায় বিদ্যুৎ দেওয়া গেলেও গ্রামাঞ্চলে এখনো সরবরাহ দিতে না পারায় আমরা দুঃখিত।’

