ম্যাগনেশিয়াম একটি অত্যাবশ্যক খনিজ, যা পেশির কার্যকারিতা, স্নায়ুর স্বাস্থ্য, হৃদ্যন্ত্রের স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই প্রয়োজনীয় ম্যাগনেশিয়াম পূরণে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে কিছু ফল প্রাকৃতিকভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করতে পারে এবং দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে।
সুষম খাদ্যতালিকায় ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ ফল যুক্ত করলে শরীর যেমন উপকার পায়, তেমনি ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবারও পাওয়া যায়। ‘সাইন্টিফিকা’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ম্যাগনেশিয়াম শরীরের ৩০০টিরও বেশি বায়োকেমিক্যাল প্রতিক্রিয়ায় অংশ নেয়। এটি শক্তি উৎপাদন, পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা এবং হৃদ্রোগ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. প্যাশন ফল
প্যাশন ফল ম্যাগনেশিয়ামের অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস। এতে আরও রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন-সি এবং উপকারী উদ্ভিদ যৌগ, যা হজম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
২. অ্যাভোকাডো
সবজি হিসেবে বেশি পরিচিত হলেও অ্যাভোকাডো আসলে একটি ফল। এতে ম্যাগনেশিয়ামের পাশাপাশি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, পটাশিয়াম ও ফাইবার রয়েছে।
৩. কলা
কলা মূলত পটাশিয়ামের জন্য পরিচিত হলেও এতে ম্যাগনেশিয়ামও রয়েছে। এটি সহজলভ্য একটি খাবার, যা পেশির কার্যকারিতা ও শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
৪. শুকনো ডুমুর
শুকনো ডুমুরে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার থাকে। এটি নাস্তা, সালাদ বা ব্রেকফাস্ট বোলের সঙ্গে সহজেই খাওয়া যায়।
৫. পেয়ারা
পেয়ারায় ম্যাগনেশিয়ামের পাশাপাশি ভিটামিন-সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। উচ্চ ফাইবার থাকায় এটি হজম স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
৬. পেঁপে
পেঁপেতে তুলনামূলকভাবে মাঝারি পরিমাণ ম্যাগনেশিয়াম থাকে। এতে ভিটামিন এ, সি এবং হজমে সহায়ক এনজাইম রয়েছে। এটি শরীরকে হাইড্রেট রাখতেও সাহায্য করে।
৭. ব্ল্যাকবেরি
ব্ল্যাকবেরিতে ম্যাগনেশিয়ামের পাশাপাশি অ্যান্থোসায়ানিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে পারে।
৮. কাঁঠাল
কাঁঠালে ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং বিভিন্ন ভিটামিন রয়েছে। এর প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ এটিকে জনপ্রিয় মৌসুমি ফল হিসেবে পরিচিত করেছে।
৯. ডালিম
ডালিমে ম্যাগনেশিয়ামের পাশাপাশি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা হৃদ্স্বাস্থ্য উন্নত করতে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
১০. শুকনো এপ্রিকট
শুকনো এপ্রিকটে ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও ফাইবার থাকে। এটি পুষ্টিকর একটি স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া যায় বা ট্রেইল মিক্সে যোগ করা যায়।
ফল কি ম্যাগনেশিয়াম সাপ্লিমেন্টের বিকল্প হতে পারে?
সাধারণভাবে সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য ফল, শাকসবজি, বাদাম, বীজ, ডাল ও পূর্ণ শস্যে সমৃদ্ধ খাদ্যতালিকা ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
তবে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা, হজমজনিত রোগ বা ক্লিনিক্যালি প্রমাণিত ম্যাগনেশিয়াম ঘাটতির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে।
ম্যাগনেশিয়াম শরীরের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত। অ্যাভোকাডো, কলা, পেয়ারা, প্যাশন ফল, ডুমুর ও পেঁপের মতো ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে প্রাকৃতিকভাবে ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে এগুলো শরীরকে অতিরিক্ত পুষ্টিও সরবরাহ করে।
যেকোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু বা বন্ধ করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি

