৮ জুন ২০২৬, সোম

১৭ লাখ ডলারের উচ্চশিক্ষা বৃত্তি পেলেন আইএসডির শিক্ষার্থীরা

ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি) থেকে এ বছর গ্র্যাজুয়েট সম্পন্ন করা ব্যাচের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা অর্জনে বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে মোট ১৭ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বৃত্তি পেয়েছেন।
সম্প্রতি, রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ব্যাচের ৩৮ শিক্ষার্থী তাদের গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা গ্রহণ করেন। এখন তারা শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুত। ইতোমধ্যেই এ ব্যাচের অনেক শিক্ষার্থী সিডনি ইউনিভার্সিটি, কিংস কলেজ লন্ডন, ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি, মোনাশ ইউনিভার্সিটি, আমস্টারডাম ইউনিভার্সিটি সহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ও হংকং – এর শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

আইএসডি থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী এবং ভ্যালেডিক্টোরিয়ান নিয়াহরাহ মাহবুব নিউরোবায়োলজিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি, সান ডিয়েগোতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি পর্যবেক্ষণপ্রবণ। প্লেগ্রুপ থেকে আইএসডিতে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সময়ের সঙ্গে স্কুল ও আশপাশের পরিবেশের পরিবর্তন দেখে বুঝেছি, আমাদের ছোট ছোট উদ্যোগও অন্যের জীবনে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউরোবায়োলজির প্রতি আগ্রহের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানুষকে সাহায্য করার ইচ্ছা থেকেই এ বিষয়ে আমার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি যেমন কঠিন, তেমনি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, তা জানার কৌতূহল এবং অন্যের উপকারে আসার আকাঙ্ক্ষা—এই দুই বিষয় আমাকে এ ক্ষেত্রের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ১০ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখব, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারি না। তবে নিজের আগ্রহ ও স্বপ্নের প্রতি অটল থাকতে চাই। এমন একটি পেশা বেছে নিতে চাই, যা আমি সত্যিই ভালোবাসি।

অনুষ্ঠানে আইএসডির পরিচালক স্টিভ ক্যালান্ড-স্কোবল বলেন, আজ শিক্ষার্থীদের হাতে ডিপ্লোমা তুলে দেওয়ার মুহূর্তটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং পরিবারের নিরন্তর সহযোগিতা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও), বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন বলেন, একটি অর্থবহ ক্যারিয়ার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্বের বিকাশের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষা। আজকের বিশ্বে এমন তরুণদের প্রয়োজন যারা বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা করতে পারে, দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে। আজ এই কক্ষে শিক্ষার্থীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রতিভার বৈচিত্র্য দেখে আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীষণ আশাবাদী।

গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইএসডি বাংলাদেশে একটি শীর্ষস্থানীয় আইবি (ইন্টারন্যাশনাল ব্যাকালোরিয়েট) স্কুল হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। স্কুলটির অ্যালামনাই নেটওয়ার্কে রয়েছে ৪৫টি ভিন্ন জাতীয়তার ৭০০ জনেরও বেশি সাবেক শিক্ষার্থী, যারা এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৫টি দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *