২৭ মে ২০২৬, বুধ

মঙ্গলের বুকে এই রহস্যময় পাথর কি কেউ সাজিয়ে রেখেছে? জানালেন বিজ্ঞানীরা

মঙ্গল গ্রহ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। লাল এই গ্রহের শুষ্ক ও রুক্ষ মরুভূমির ভেতরে লুকিয়ে আছে কোটি কোটি বছরের পুরোনো ইতিহাস। সেই ইতিহাস জানতেই নিয়মিত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি নাসার পারসিভারেন্স রোভার মঙ্গলে এমন কিছু অদ্ভুত পাথরের ছবি পাঠিয়েছে, যা দেখতে একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে রাখা পাথরের স্তূপের মতো। ছবি প্রকাশের পর বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ১৩ মে রোভারের অত্যাধুনিক মাস্টক্যাম-জেড ক্যামেরায় তোলা ছবিতে দেখা যায়, পাথরগুলো খুব গোছানোভাবে সাজানো। দেখে মনে হয় যেন কেউ হাত দিয়ে একটির ওপর আরেকটি রেখে দিয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এটি আসলে প্রাকৃতিকভাবেই তৈরি হয়েছে। লাখ লাখ বছর ধরে তীব্র বাতাস ও পরিবেশগত প্রভাবের কারণে পাথরগুলো ক্ষয়ে গিয়ে এমন আকার নিয়েছে। এগুলো আলাদা কোনো স্তূপ নয়, বরং একটি বড় পাথর ভেঙে টুকরা হয়ে গেছে। পরে দীর্ঘ সময়ের বাতাসের প্রভাবে সেগুলো এমন অদ্ভুত রূপ পেয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাচীন সময়ে মঙ্গলের পরিবেশ আজকের মতো ছিল না। তখন সেখানে নদী, পানির প্রবাহ ও নানা ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন ছিল। নাসার কিউরিওসিটি রোভারের আগের গবেষণাতেও দেখা গেছে, মঙ্গলের বর্তমান ভূপ্রকৃতি গঠনে তীব্র বাতাস বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া প্রাচীন নদী ও নদীর তলদেশ বড় বড় পাথর ভাঙা ও সরাতে সাহায্য করেছিল।

এর আগেও নাসার বিভিন্ন মঙ্গল মিশনে এমন অনেক ছবি পাওয়া গেছে, যা প্রথম দেখায় রহস্যময় মনে হয়েছিল। কখনো অদ্ভুত আকৃতির বস্তু, কখনো ডোরাকাটা পাথর নিয়ে ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ১৯৭৬ সালের ভাইকিং মিশন। তখন একটি ছবিতে মানুষের মুখের মতো অবয়ব দেখা গিয়েছিল। পরে উন্নত প্রযুক্তির ছবিতে জানা যায়, সেটি আসলে সাধারণ পাথরের গঠন ছিল। পারসিভারেন্স রোভারও আগে এমন অনেক ছবি পাঠিয়েছে, যেগুলো পরে স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক গঠন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

মঙ্গল গ্রহের বড় একটি অংশ এখনো মানুষের অজানা। পারসিভারেন্সের মতো রোভারগুলোই এখন সেখানে গবেষণার প্রধান মাধ্যম। রোভারের পাঠানো প্রতিটি ছবি ও তথ্য বিজ্ঞানীদের মঙ্গলের রহস্য বুঝতে সাহায্য করছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক অনেক সময় অচেনা জিনিসের মধ্যে পরিচিত কোনো আকৃতি খুঁজে পেতে চায়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘প্যারেডোলিয়া’। তবে প্রকৃতির নিজস্ব গঠন যে মানুষের কল্পনার চেয়েও বিস্ময়কর হতে পারে, এই পাথর তারই উদাহরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *