মাত্র কয়েক মাস আগেই ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন সূর্যকুমার যাদব। অধিনায়ক হিসেবে দলকে শিরোপা এনে দিয়ে প্রশংসায় ভেসেছিলেন তিনি। তবে সেই সাফল্যের পরই তার ক্যারিয়ারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তার ছায়া।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের আগে সূর্যকুমারকে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। শুধু অধিনায়কত্বই নয়, আসন্ন সিরিজে তাকে দলে না রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিসিসিআই, নির্বাচক কমিটি এবং টিম ম্যানেজমেন্ট যৌথভাবে টি-টোয়েন্টি দলের জন্য নতুন নেতৃত্ব গঠনের পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সূর্যকুমারের নেতৃত্বে ভারত বিশ্বকাপ জিতলেও তার সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় নতুন অধিনায়কের দিকে ঝুঁকছে বোর্ড। তাদের মতে, এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে।
সূর্যকুমারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তার ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতা। গত দুই বছর ধরেই তিনি প্রত্যাশিত রান করতে পারছিলেন না। ২০২৬ সালের আইপিএলেও তার পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ১৩ ইনিংসে তিনি সংগ্রহ করেন মাত্র ২৭০ রান, যেখানে তার গড় ছিল ২০.৭৬। মৌসুমের শেষ দিকে একটি অর্ধশতক পেলেও পুরো টুর্নামেন্টে তিনি নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারেননি।
২০২৪ সালে রোহিত শর্মা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর জাতীয় দলের দায়িত্ব পান সূর্যকুমার। তার নেতৃত্বে ভারত ২০২৬ সালে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিশ্বকাপ জয়ের পর সূর্যকুমার বলেছিলেন, অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের ব্যাটিংয়ের চেয়ে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। তার বিশ্বাস ছিল, দল ভালো খেললে ব্যক্তিগত রানও একসময় ফিরে আসবে।
তবে শেষ পর্যন্ত দলের সাফল্য তার ব্যক্তিগত ব্যর্থতাকে আড়াল করতে পারেনি। ফলে টি-টোয়েন্টি দলে নেতৃত্ব ও দলগঠন নিয়ে নতুন অধ্যায়ের দিকে এগোচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

