বিশ্বকাপের বছরে বেশ বিপাকেই পড়ে গিয়েছিলেন হামেস রদ্রিগেস। খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি জুতসই কোনো ক্লাব। বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে তৈরি রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জও তাই চোখ রাঙাচ্ছিল তাকে। অবশেষে কলম্বিয়ান অধিনায়ক স্বল্পমেয়াদী চুক্তিতে বেছে নিলেন নতুন ক্লাব।
মেজর লিগ সকারের দল মিনেসোটা ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন রদ্রিগেস। ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের দলটির সঙ্গে তার চুক্তি আগামী জুন পর্যন্ত। তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেটি বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে চুক্তিতে।
চুক্তির আর্থিক বিষয়াদি খোলাসা করা হয়নি। ৩৪ বছর বয়সী তারকা বিবৃতিতে জানান, নতুন অভিযান নিয়ে তিনি রোমাঞ্চিত।
“জীবনের নতুন এই অধ্যায়ের জন্য আমি খুশি। আশা করি, নিজের সেরাটা মেলে ধরতে পারব, যাতে এই শহর ও আমার ওপর বিশ্বাস রাখা প্রতিটি মানুষকে আনন্দ দিতে পারি।”
“মিনেসোটার আবেগময় সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতে তর সইছে না আমার, কারণ আমি নিজেও খেলি আবেগ দিয়ে, মাঠে নেমে যে নিজের সবটুকু উজার করে দিতে চায় এবং সবসময় শুধু জিততেই চায়।”
তার প্রজন্মের সবচেয়ে প্রতিভাবান ফুটবলারদের একজন ক্লাব খুঁজে পেতে হয়রান হচ্ছিলেন, এটিই ফুটিয়ে তুলছে তার বাস্তবতা। পোর্তো ও মোনাকো হয়ে ২০১৪ সালে তিনি নাম লেখার রেয়াল মাদ্রিদে। ইউরোপের সফলতম ক্লাবে যোগ দেওয়ার আগেই ২০১৪ বিশ্বকাপে তাক লাগানো পারফরম্যান্সে জিতে নেন তিনি গোল্ডেন বুট।
রিয়ালে শুরুর সময়টায় তিনি ছিলেন দারুণ উজ্জ্বল। পরে তিনি খেই হারান। ধারে দুই মৌসুম বায়ার্ন মিউনিখে খেলে খুব ধারাবাহিক হতে পারেননি। ২০২০ সালে রিয়ালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার ক্যারিয়ার দিশা হারায় আরও।
গত ছয় বছরে ছয়টি ক্লাবে দেখা গেছে তাকে। এভারটন, আল-রায়ান, অলিম্পিয়াকোস, সাও পাউলো, রায়ো ভাইয়েকানো হয়ে সবশেষ তিনি ছিলেন মেক্সিকোর ক্লাব লেওনে। ক্লাবটির হয়ে ৩৪ ম্যাচ খেলে ৫টি গোল করতে পারেন তিনি। সব মিলিয়ে ক্লাব ক্যারিয়ারে ৫১৬ ম্যাচ খেলে ১২৭ গোল করার পাশাপাশি সহায়তা করেছেন তিনি ১৬১ গোলে।
হামেসের মানের একজনকে দলে পেয়ে উচ্ছ্বসিত মিনেসোটার প্রধান ফুটবল কর্মকর্তা ও ক্রীড়া পরিচালক খালেদ এল-আহমাদ। তবে স্রেফ একজনের ওপরই যে নির্ভর করা হবে না, সেটিও তিনি জানিয়ে দিলেন।
“হামেস এমন একজন ফুটবলার যার গুণমান, দৃষ্টিভঙ্গি এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে অভিজ্ঞতা প্রশ্নাতীত। তার সৃষ্টিশীলতা এবং ফুটবল বুদ্ধিমত্তা আমাদের দলে যোগ করতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত। একই সঙ্গে, এই পদক্ষেপটি সম্মিলিত শক্তির প্রয়াসও, একজনের ওপরই সবকিছু চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।”
“নিজেদের কাঠামো এবং সংস্কৃতিতে বিশ্বার আছে আমাদের এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করতে পারেন হামেস। আমাদের চাওয়া, তাকে সঠিক উপায়ে দলে একীভূত করা এবং এটা নিশ্চিত করা যে, সে যেন এমনভাবে অবদান রাখতে পারে, যা দলকে এগিয়ে নেবে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, একসঙ্গে আমরা আমাদের সম্প্রদায়, ক্লাব এবং আমাদের ভক্তদের জন্য প্রভাববিস্তারী কিছু তৈরি করতে পারব।”
ক্লাব ক্যারিয়ার অস্থির ও অধরাবাহিক হলেও জাতীয় দলের হয়ে তিনি বেশ উজ্জ্বল। দেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (১২২) ম্যাচ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলের (৩১) রেকর্ড তার। সব ঠিকঠাক থাকলে তার নেতৃত্বেই আগামী বিশ্বকাপে খেলতে কলম্বিয়া।

