প্রতি মিনিটে ৬০ বারের কম হৃদস্পন্দনকে ব্র্যাডিকার্ডিয়া বলা হয়ে থাকে। ব্র্যাডিকার্ডিয়া নির্ণয়ের জন্য সাধারণত ইসিজি পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য হোল্টার মনিটরিং করা হয়, যাতে হার্টের অনিয়মিত ছন্দ ধরা পড়ে।
চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণ ও তীব্রতার ওপর। তবে এটি সবসময় বিপজ্জনক হবে এমনটি নয়। যেমন—ঘুমের সময় বা অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে হার্ট রেট কম থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা তখনই হয়, যখন এটি নিয়মিত ঘটে থাকে এবং এর সঙ্গে কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। আর এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে হৃদযন্ত্রের একটি নীরব সমস্যা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি আপনার হার্টবিট নিয়মিতভাবে প্রতি মিনিটে ৬০-এর নিচে নেমে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
কারণ ৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে এ সমস্যার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ছাড়া যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক সময় বয়স্কদের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণকে স্বাভাবিক বার্ধক্যের অংশ মনে করে উপেক্ষা করা হয়, যা বিপজ্জনক হতে পারে। কখনো ওষুধ পরিবর্তন বা শরীরের ভারসাম্য ঠিক করলেই সমাধান হয়, আবার গুরুতর ক্ষেত্রে পেসমেকার বসানোর প্রয়োজন হতে পারে।
আর হার্টবিট কম হওয়া সবসময় ভয়ঙ্কর নয়। কিন্তু শরীর যখন বারবার সংকেত দেয়, তখন সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হঠাৎ ক্লান্ত লাগা, মাথা ঘোরা কিংবা অজানা দুর্বলতা অনেকেই এসবকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। হৃদযন্ত্রের সমস্যাগুলো অনেক সময় নীরবেই বাড়তে থাকে। তাই সামান্য লক্ষণকেও অবহেলা না করে সময়মতো পরীক্ষা করানোই হতে পারে বড় বিপদ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
হৃদযন্ত্রের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে সিনোঅ্যাট্রিয়াল নোড, যা আপনার শরীরের প্রাকৃতিক পেসমেকার হিসেবে কাজ করে থাকে। এই অংশটি ঠিকমতো কাজ না করলে আপনার হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে পৌঁছে দিতে পারে না। এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা, শারীরিক শক্তি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনেক সময় এর লক্ষণগুলো খুব সূক্ষ্ম হয় এবং ক্লান্তি বা বয়সজনিত সমস্যা বলে ভুল করা হয়।
চেলনু জেনে নেওয়া যাক, কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়—
১. দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
২. অকারণে দুর্বলতা
৩. মাথা ঘোরা
৪. হালকা লাগা
৫. সামান্য কাজেই শ্বাসকষ্ট
৬. বুকে অস্বস্তি
৭. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হওয়ার উপক্রম

