৮ মার্চ ২০২৬, রবি

বাংলাদেশকে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও বড় সংকটে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত , ভারতের থেকে পাকিস্তানকে ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আইসিসি।

শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ড, এসএলসি আইসিসির সঙ্গে একযোগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, পিসিবি এবং পাকিস্তান সরকারকে সিদ্ধান্ত বদলাতে অনুরোধ করছে। তবে এখনো অনড় রয়েছে পাকিস্তান।

ভারত পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে না গড়ালে আইসিসি, ব্রডকাস্টার এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ম্যাচ খেলাতে পাকিস্তানকে রাজি করাতে ব্যর্থ হলে আগামী চক্রে আইসিসির সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্বের চুক্তি নবায়ন নাও করতে পারে জিও হটস্টার।

আইসিসির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, শুধু এই এক ম্যাচ থেকেই প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় হয়, যা ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্য, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

২০২৩ সালে জিও হটস্টার ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৬ হাজার ৭২৯ কোটি টাকায় আইসিসির সম্প্রচার স্বত্ব কেনে। ভারত পাকিস্তান ম্যাচ এই চুক্তির বড় ভিত্তি। ম্যাচটি না হলে ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টগুলোর আর্থিক কাঠামো বড় ধাক্কা খেতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। পরে বাংলাদেশ সরকার বা বোর্ডের সবুজ সংকেত ছাড়াই আইসিসি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয়। এর প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আগেই নিশ্চিত করেছেন, শাহীন শাহ আফ্রিদি, বাবর আজম মাঠে নামবেন না ভারতের বিপক্ষে। অথচ আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ আয়োজন করতে মরিয়া আইসিসি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিও হটস্টার যদি চুক্তি নবায়ন না করে, কিংবা আইসিসি অন্য কোনো সম্প্রচারকের কাছে একই মূল্যে স্বত্ব বিক্রি করতে না পারে, তাহলে সংস্থাটির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে এই চুক্তি থেকে আইসিসির আয় হওয়ার কথা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। এই অর্থ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়। আয় কমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ, পাকিস্তান। একই অবস্থায় পড়বে শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড। তুলনামূলক কম প্রভাব পড়বে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের ওপর।

ভারত পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি এই সংকট এখন শুধু একটি ম্যাচ নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *