১৪ এপ্রি ২০২৬, মঙ্গল

২৫ বছর পূর্বের বিস্ফোরণের ধোঁয়া-গ্যাস আজও ছড়াচ্ছে মহাশূন্যে

মহাকাশ মানেই স্থির—এমনটাই আমরা ভাবি। কিন্তু বাস্তবটা ভিন্ন। আকাশের এক কোণে এখনও ছুটে চলছে এক ভয়ংকর বিস্ফোরণের চিহ্ন। প্রায় এক হাজার বছর আগে এক তারা বিস্ফোরিত হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণের ধোঁয়া-গ্যাস আজও ছড়িয়ে যাচ্ছে মহাশূন্যে।

নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ সম্প্রতি ‘ক্র্যাব নীহারিকা’র (একটি বিস্ফোরিত তারার অবশিষ্ট অংশ) দেখা পেয়েছে। আগের ছবির সঙ্গে নতুন ছবি মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, গত ২৫ বছরে এটি আরও বড় হয়েছে এবং আকার বদলেছে।

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি জানায়, এই নীহারিকাটি ১০৫৪ সালে একটি তারা বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হয়। তখন এটি এত উজ্জ্বল ছিল যে দিনের বেলাতেও দেখা গিয়েছিল। এখন এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৬,৫০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে।

হাবলের ছবিতে দেখা গেছে, নীহারিকার ভেতরের গ্যাস ও ধূলিকণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই গ্যাসের লম্বা সরু রেখাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন মাইল গতিতে বাইরে ছুটছে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, এই বিস্তার হচ্ছে কেন্দ্রের একটি ‘পালসার’ (এক ধরনের শক্তিশালী ঘূর্ণায়মান তারার অবশিষ্ট অংশ) থেকে আসা শক্তির কারণে। এটি চারপাশের গ্যাসকে ঠেলে বাইরে পাঠাচ্ছে।

গবেষক উইলিয়াম ব্লেয়ার বলেন, আকাশকে আমরা স্থির ভাবলেও আসলে তা নয়। হাবলের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে বোঝা যায়—মহাকাশও বদলাচ্ছে, নড়ছে, বাড়ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই গবেষণা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি দেখায়, কীভাবে একটি তারার মৃত্যু থেকে তৈরি হওয়া নীহারিকা সময়ের সঙ্গে বদলায়। আর এই পরিবর্তন এখন মানুষের জীবনকালেই চোখে দেখা যাচ্ছে—যা আগে কল্পনাও করা যেত না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *