১৭ এপ্রি ২০২৬, শুক্র

আজ চৈত্রসংক্রান্তি – পুরাতনকে বিদায় জানাতে দেশজুড়ে উৎসবের ছোঁয়া

আজ চৈত্রের ৩০ তারিখ; চৈত্রসংক্রান্তি। বাংলা বছরের শেষ দিনটিতে আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যকে ধারণ করে পুরোনো বছরের সব জরাজীর্ণতা মুছে ফেলে সুন্দর ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় চলে আয়োজন। জটিলতা, ক্লেশ ও বেদনাকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি সব অন্ধকারকে বিদায় জানিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ।
জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে, সংক্রান্তি বলতে বোঝায় এক রাশি থেকে পরবর্তী রাশিতে সূর্যের গমন। নতুন বাংলা বছরে পা রাখার আগেই রাশি পরিবর্তন করে সূর্য। প্রবেশ করে প্রথম রাশি, মেষে। সূর্য মেষ রাশিতে প্রবেশ করেই খুব প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। এই শুভ সময়ে শনি, রাহু ও মঙ্গল গ্রহকে তুষ্ট করার জন্য কিছু প্রতিকার করলে তা বিশেষ ফলদায়ক হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, শনি, রাহু এবং মঙ্গল অনিষ্টকারী গ্রহ। এই তিন গ্রহের কুদৃষ্টির ফলে মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তাই, এদের তুষ্ট রাখতে চান সবাই। তাইতো বছরের শেষ দিনটিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস করে থাকেন। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করার প্রচলন হয়ে আসছে। এছাড়া দেশের গ্রামগঞ্জে মেলা বসে ও উৎসব হয়। হালখাতার জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানে পুরোনো বছরকে বিদায় জানানো হয়।

চৈত্রসংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক। চড়ক গাজন উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ। এ উপলক্ষ্যে এক গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য গ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে রয়েছে নানা আয়োজন।

শিল্পকলায় পাঁচ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে ৫ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলার অনুষ্ঠান সবার জন্য উন্মুক্ত। আজ বেলা ৩টায় একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে এই আয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। প্রথম দিনের আয়োজনে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ ধামাইল নৃত্য, জারিগান, পটের গান, পুঁথিপাঠ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবেশনা, সমবেত নৃত্য ও তারকা শিল্পীদের পরিবেশনা, যাত্রাপালা রহিম বাদশা রূপবান কন্যা পরিবেশিত হবে। এছাড়াও জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারি-৪ এ লোকশিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন হবে।

গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন: বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে চৈত্রসংক্রান্তি ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। আয়োজকরা জানান, আজ বিকাল ৫টায় রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মূল মিলনায়তনে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু হবে। সাংস্কৃতিক পর্বে নৃত্য, লোক সংগীতানুষ্ঠান ও সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের গান। একই সঙ্গে প্রবীণ গ্রুপ থিয়েটার শিল্পীদের সম্মাননা দেওয়া হবে। আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসাবে থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতায় রায় চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসাবে থাকবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাট্যশিল্পী লাকি ইনাম। এছাড়া ঢাকা ও ঢাকার বাইরে রয়েছে চৈত্রসংক্রান্তির নানামাত্রিক আয়োজন।

পালাকারের আয়োজন: দুই যুগ পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে নাট্যদল ‘পালাকার’। আজ চৈত্রসংক্রান্তি সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘পালা-মেলা : দুই যুগের গল্পকথা’। আয়োজকরা জানান, নতুন আঙিনায় অনুষ্ঠিতব্য এই সান্ধ্য আয়োজনে থাকছে দলের জনপ্রিয় নাট্য প্রযোজনার নির্বাচিত অংশের পরিবেশনা, গানের আয়োজন, দেশীয় খাবারের আসর এবং প্রাণবন্ত আড্ডা। দীর্ঘদিনের নাট্যচর্চার অভিজ্ঞতা ও সৃষ্টিশীলতার ধারাবাহিকতাকে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে দলটির শুভানুধ্যায়ী, সংস্কৃতিকর্মী, দর্শকসহ সবার উপস্থিতি কামনা করেছেন আয়োজকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *